Posts

Showing posts from December, 2025

বিজন ভাবনা - (২৪) মৃত্যু কি পথ দেখাবে?

Image
কয়েক দিন আগে দীপু দাশকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে ফেলল তথাকথিত তৌহিদী জনতা। একজন লিখল “ঐ হিন্দু লোকটার মৃত্যুর সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই।” যে লিখেছে সে প্রচলিত অর্থে অশিক্ষিত কেউ নয়। সে নিশ্চয়ই সামাজিক মাধ্যমে এই খবরটি জেনেছে, তাই নাম না জানার প্রশ্ন আসে না। সেক্ষেত্রে হিন্দু লোক কথাটি আসলে একটি মানসিকতার পারিচায়ক। মানে তার কাছে হিন্দুর কোন নাম ধাম নেই, সে কেবলই একটি সংখ্যা, অনেকটা একটি গরু বা ছাগল মারা গেছে এমন একটি ভাব। এটা বলছি এ কারণে যে আমাদের সমাজে এ ধরণের মানুষরাই আজ সংখ্যাগরিষ্ঠ, যাদের কাছে ভিন্ন রকমের মানুষ, তা সে মতে হোক, জাতিতে হোক, ধর্মে হোক, শুধুই একটি সংখ্যা, যাদের কোন আত্মপরিচয় নেই। “ধর্মের সাথে কোন সম্পর্ক নেই” তার এই বিবৃতিটিকে ঠিক সত্য বলা যায় না যদিও সরাসরি ধর্মের সাথে এই হত্যার কোন সম্পর্ক ছিল না। জানা গেছে যে সে একজন শ্রমিক। কিছুদিন আগে তার পদন্নোতি ঘটেছে। সেখানে আরও কয়েকজন প্রার্থী ছিল। যারা প্রতিযোগিতায় হেরে গেছে তারা বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। দীপু দাশের সাথে এদের একজনের অর্থের লেনদেন নিয়ে কি একটা সমস্যা ছিল। সেই অর্থে এটা একটি অর্থনৈতিক লেনদেন সংক্রান্ত ঘটন...

বিজন ভাবনা - (২৩) ডিসেম্বর

Image
ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। বাংলার, বাংলাদেশের স্মরণকালের ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ও সবচেয়ে গৌরবময় ঘটনা ঘটেছে এই মাসেই, ঘটেছে একই বছরে, ১৯৭১ সালে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ইতিহাসে প্রথমবারের মত বাঙালি পেয়েছে নিজস্ব মানচিত্র, নিজস্ব পতাকা, নিজস্ব জাতীয় সঙ্গীত - একান্ত নিজের এক রাষ্ট্র। কিন্তু এই বিজয়ের গৌরবময় মূহুর্তের মাত্র দুই দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর বাঙালি হারিয়েছে তার এক দল প্রতিভাবান সন্তানকে যারা দীর্ঘ নয় মাস জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটু একটু করে এই বিজয়কে এগিয়ে এনেছেন, যাদের হাত ধরেই নবজাতক রাষ্ট্রের পথ চলার কথা ছিল। ১৬ ডিসেম্বর ছিল বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনেই দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রাম সাফল্যের মুখ দেখেছিল কোটি কোটি মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে। তবে ২০২৫ সালে জাতি বিজয় দিবস কতটুকু পালন করছে আর কতটুকু বিজয়ের অর্জন ধূলায় লুন্ঠিত হচ্ছে বিজিতদের হাতে সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। বিজিতরা বরাবরই ঐক্যবদ্ধ প্রতিশোধের নেশায়, বিজয়ীরা প্রথম থেকেই দ্বিধাবিভক্ত ভাগবাটোয়ারা নিয়ে। এমনকি এই বন্টনে ন্যায্য ভাগ পায়নি বলে যারা নিজেদের বঞ্চিত মনে করে তাদের অনেকেই আদর্শিক শত্রুর সাথে হাত মিলিয়েছ...

বিজন ভাবনা - (২২) রাশিয়া টাকা আর ইউরোপের লোলুপ দৃষ্টি

Image
ছোটবেলায় আমরা গনি মিয়াঁর গল্প পড়েছিলাম। গনি মিয়াঁ গরীব কৃষক। তার নিজের জমি নাই, সে অন্যের জমি চাষ করে। ছেলের বিয়েতে সে অনেক ধূমধাম করল। এখন তার দুঃখের সীমা নাই। আমার অবস্থা অবশ্য গনি মিয়াঁর চেয়ে খুব একটা ভালো নয়, তবে চেষ্টা করি ধূমধাম না করার জন্য। তাই দুঃখ থাকলেও সেটা অসীম নয়। তবে কথা আমাকে নিয়ে নয়, কথা ইউরোপকে নিয়ে। বলে রাখি যে শুধু গরীব গনি মিয়াঁই নয়, বেপারোয়া ভাবে খরচ করলে ধনীরাও দুঃখের সাগরে ডুবে যায়। যাহোক, রাশিয়ায় সাথে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলতে গিয়ে ইউরোপের অর্থনীতির এখন বেহালা বাজানোর অবস্থা। কথায় আছে সুখে থাকলে ভূতে কিলায়। সত্তর দশক থেকে আর বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ইউরোপের অর্থনীতির ষ্টীম ইঞ্জিনের জ্বালানি যোগাত রাশিয়া। কিন্তু হঠাৎ করেই তারা গল্পের নট নটী সেজে বেকে বসল। কোন সে গল্প? একদিন হাত বলল, “আমি সারাদিন কাজ করি আর পেট শুধু বসে বসে খায়। এই অন্যায় আর মেনে নেয়া যায় না।” পা সায় দিয়ে বলল, “আমিও দূর দূরান্তে হেঁটে বেড়াই, আর ও শুধু খায়। সেটা কি কোন কথা হল?” এরপর চোখ, কান, নাক, মুখ সবাই একে একে তাদের কর্মময় জীবনের গল্প শোনাল আর শেষে সবাই মিলে পেটের বিরুদ্ধে অনাস্থা ঘোষণা কর...

বিজন ভাবনা - (২১) যুদ্ধ আর শান্তির গোল্লাছুট

Image
ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের জন্য ইদানিং বেশ দৌড়ঝাঁপ চলছে ট্রাম্প অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পক্ষ থেকে। মজার ব্যাপার হল এক দিকে তিনি ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ করার চেষ্টা করছেন, অন্য দিকে ভেনেজুয়েলায় যুদ্ধ জাহাজ পাঠাচ্ছেন। এ যেন এক সাথে ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর – সৃষ্টি, পালন ও ধ্বংসের দূত। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ আসলেই থামবে কি? সোভিয়েত আমলের শেষ দিকে এ দেশে শুরু হয় সোপ অপেরার যুগ। মনে হয় “দাসী ইজাউরা” দিয়ে এর শুরু। সেটা ছিল ব্রাজিলের সিরিয়াল। এটা ছিল ব্রাজিলে শ্বেত প্রভু আর কৃষ্ণাঙ্গ দাসদের বিরোধের ইতিহাস আর প্রেমের গল্প। এরপর আসে মেক্সিকোর “ধনীরাও কাঁদে”। আমরা বন্ধুরা প্রায়ই একসাথে বসে এসব সিরিয়াল দেখতাম আর ফুটবল খেলা দেখার মতই বিভিন্ন ঘটনায় আবেগ প্রকাশ করতাম। লুইস এলবারতো ছিল এই সিরিয়ালের নায়ক। সবাই জানত তার প্রতি মারিয়ানার (মারিয়ানা কি? ভুলে গেছি) ভালবাসার কথা, স্বামীর প্রতি মারিয়ানার সততার কথা। শুধু লুইস আজীবন মারিয়ানাকে সন্দেহ করে গেছে। নিজের ছেলেকে (যাকে সে জানত না) মারিয়ানার প্রেমিক মনে করে মদ খেয়ে হল্লা করেছে। আমরা প্রায়ই নিজেদের মধ্যে ঠাট্টা করে বলতাম, সারা বিশ্ব জানে তার ছেলে কথা, শুধু লুইস জানে ...