Posts

বিজন ভাবনা - (৬৮) জয় বাংলা

Image
কয়েক দিন আগে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দীপক শীলকে গ্রেফতার করা হয়েছে জয় বাংলা স্লোগান দেবার অপরাধে। জয় বাংলা স্লোগান কি দেশে নিষিদ্ধ? যতদূর জানি না। যে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে নতুন ব্যবস্থা কায়েম করা হল এর মধ্যে দিয়ে তারা নিজেরাই কি স্বৈরাচারের পথে হাঁটছে না? প্রেসিডেন্ট জিয়া বলেছিলেন – “মানি ইজ নো প্রবলেম” আর “আই মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট।” সেই রাজনীতির সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা রাজনীতিতে মানির বন্যাই শুধু বইয়ে দেন নাই, মেইড পলিটিক্স ডিফিকাল্ট মানে সব দলের জন্য (এমনকি নিজের দলের জন্যেও) রাজনীতি কঠিন করে তোলেন। হাসিনা পরবর্তী ইউনুস সরকার আর বর্তমানে তারেক রহমান সরকার সেই হাসিনার পথেই হাঁটছেন। সেই অর্থে আমাদের দেশে রাজা আসে রাজা যায় কিন্তু সবই বিশেষ করে দুঃশাসন আগের মতই থেকে যায়। জয় বাংলা প্রসঙ্গে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক বলেন “মুক্তিযুদ্ধের সময় কমিউনিস্টরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছিল। ’৭২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সিপিবি তার কোন কর্মসূচি, সমাবেশে জয় বাংলা স্লোগান দেয়নি। জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগ অনেক অপকর্ম করেছে। …” এই স্ট্যাটাসে আমার মন্তব্য ছিল “জয় ...

বিজন ভাবনা - (৬৭) অন্য বাড়ির আগুন

Image
আরব বিশ্ব, পূর্ব ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়ার পর এখন পশ্চিম ইউরোপ জ্বলছে। মাঝে অবশ্য খোদ আমেরিকা জ্বলেছে বিএলএম আন্দোলনে। এসব আন্দোলনের সার্বিক গতিবিধি দেখলে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে এর পেছনে রয়েছে একই হাত, একই মাস্টারমাইন্ড। হয় এরা নকলে পটু, একে অন্যের প্লট খুব ভালো ভাবে নকল করে অথবা একই অথবা পরস্পরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বেশ কয়েকটি সংস্থা পেছন থেকে কলকাঠি নাড়াচ্ছে। ধারণা করা যায় যে পেছন থেকে যারা কাজ করছে তাদের মধ্যে সোরস ফান্ড, ডীপ স্টেট ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তবে কোথাও এদের সমর্থনে কোথাও বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে আন্দোলনে যোগ দিয়েছে মৌলবাদী শক্তি, বিশেষ করে ইসলামী মৌলবাদীরা। আর প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বামেরা এসব আন্দোলনে শরিক হয়েছে। এমনকি এতে করে যে ধর্মীয় মৌলবাদীরা ক্ষমতা দখল করবে সেটা জেনেও। বর্তমানে একই সাথে যেভাবে ইউরোপ আর এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছে তাতে করে এটাকে রাজনৈতিক এল নিনো বললে ভুল হবে না। প্রায় প্রতিটি দেশেই কী সরকার, কী বিরোধী দল, কী ছাত্র সংগঠন – সবাই একই চিত্রনাট্য অনুযায়ী চলছে। প্রতিটি দেশের ক্ষমতাসীনরা দেখছে কি কি ভুলের কারণে অন্য দেশে আন্দোলন দানা বাঁধছে আর ...

বিজন ভাবনা - (৬৬) চার মূলনীতির অন্তরালে

Image
কয়েক দিন আগে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্কাফি রতন বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতি নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন ফেসবুকে। এর মূল বক্তব্য ছিল চার মূলনীতি প্রশ্নে সিপিবি আপোষ করবে না। সাথে ছিল সমকালে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ। সেখানে বারবার “চার মূলনীতি” বলা হলেও খোলসা করে “জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা” শব্দগুলো বলা হয়নি। স্ট্যাটাস নিয়ে কোনই আপত্তি ছিল না, বরং অনেক দিন পরে বাহাত্তরের সংবিধান নিয়ে এমন এক স্ট্যাটাস দেখে খুশিই হয়েছিলাম। তবে “জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা” শব্দমালাকে “চার মূলনীতির” হিজাব বা বোরকা পরিয়ে প্রকাশ মনে ধরেনি। তাই লিখলাম “জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা - এসব কি ভাসুর নাকি যে নাম নেয়া যাবে না?” বলাই বাহুল্য যে কমরেডদের সেটা পছন্দ হয়নি, ফলে কেন এই কমেন্ট করলাম সেটা বোঝার চেষ্টা না করে বিভিন্ন ভাবে তারা বলার চেষ্টা করেছে যে চার মুলনীতি বলতে কি বোঝায় সেটা সবই জানে। আর আমার যদি না জানা থাকে তবে যেন কষ্ট করে জেনে নেই। রতন নিজে লিখল যে তার দেড় ঘণ্টার সাক্ষাৎকার দেখলে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। ...

বিজন ভাবনা - (৬৫) যুদ্ধের মতি গতি

Image
ইউক্রেনের উপর রাশিয়া আক্রমণ জোরদার করার পর অনেকেই ফোন করছে পরিস্থিতি জানার জন্য। অবশ্য তারা মূলত খবর পাচ্ছে পশ্চিমা মাধ্যম থেকে যা জানাচ্ছে কীভাবে ইউক্রেন রাশিয়ার উপর ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, তাই তাদের ফোন করার আরেকটি উদ্দেশ্য আমরা এর মধ্যে কীভাবে টিকে আছি সেটা জানা? আগে অবশ্য অনেকেই অভিযোগ করত কেন রাশিয়া আমেরিকা বা ইসরাইলের মত হামলা চালিয়ে ইউক্রেনের সব কিছু ধ্বংস করছে না। তাদের বলতাম, সব দেশ নিজ নিজ ঐতিহ্য অনুযায়ী যুদ্ধ করে। ১৮১২ বা ১৯৪৫ সালের পিতৃভূমির যুদ্ধের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা দেখব যে পশ্চিমারা রাশিয়া আক্রমণ করে সাধারণ মানুষের উপর প্রচণ্ড অত্যাচার করেছে আর শেষ পর্যন্ত রাশিয়া যখন এসব দেশে জয় করেছে সাধারণ মানুষ মূলত তেমন কোন আক্রমণের শিকার হয়নি। এটা কথার কথা নয়, ঐতিহাসিক সত্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ২৬,৬ মিলিয়ন মানুষ মারা যায়। সেই যুদ্ধে সোভিয়েত সেনা মারা যায় ৬.৯ মিলিয়ন আর ৪.৫৬ মিলিয়ন নিখোঁজ হয়। অন্যদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি ৪.৩ মিলিয়ন সেনা হারায়। সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রায় ২০ মিলিয়ন বেসামরিক মানুষের সবাই যে জার্মান (আসলে শুধু জার্মান নয়, সমস্ত কন্টিনেটাল ইউর...

বিজন ভাবনা - (৬৪) শিক্ষানীতি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

Image
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্কাফি রতনের একটি বক্তব্য নানা তর্ক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অবশ্য বিতর্ক সৃষ্টি করা রতনের জন্য নতুন কিছু নয়। এভাবে চলতে থাকলে বিতর্ক সৃষ্টিই হবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে রতন তথা সিপিবির অন্যতম প্রধান অবদান। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষার উপর আলোচনায় রতনের বক্তব্য পুরোটা শুনে মনে হল এই বক্তব্যই অন্যভাবে দেয়া যেত। সেটা রতন ইচ্ছে করে করেনি নাকি দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের হস্তক্ষেপ তাকে কিছুটা হলেও বিভ্রান্ত বা লাইনচ্যুত করেছে সেটা ও নিজেই ভালো বলতে পারবে। শুরুটা ভালো ছিল। ২০১০ সালে প্রাথমিক শিক্ষা হবে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই শিক্ষা হতে হবে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক, অবৈতনিক ও একমুখী। এরপরে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য কিছু বিষয় পয়েন্ট আউট করলে ও আসে এবতেদায়ী শিক্ষার ব্যাপারে। সমস্যার শুরু মনে হয় এখানেই। খুব সম্ভবত এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সিপিবির বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স “সর্বজনীন, অসাম্প্রদায়িক, গণমুখী, এক ধারার বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করাই সিপিবি'র দাবি” এই মর্মে ফেসবু...

বিজন ভাবনা - (৬৩) রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচন ২০২৬

Image
রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার কামচাতকা সময় সকাল ০৮.০০ টায় শুরু হয়ে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রবিবার কালিনিনগ্রাদ সময় সন্ধ্যা ২০.০০ টায় শেষ নির্বাচন কেন্দ্র বন্ধের মধ্য দিয়ে এবারের মত পার্লামেন্ট নির্বাচন শেষ হল। রাশিয়ায় বছরে দুইবার নির্বাচন হয় - মার্চের তৃতীয় শুক্রবার থেকে রবিবার আর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় শুক্রবার থেকে রবিবার। দেশের সমস্ত নির্বাচন এই সময়েই হয়। এবার পার্লামেন্টের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় নির্বাচন হয়েছে। আগে অবশ্য মাত্র একদিন নির্বাচন হত, যদি ভুল না করি সেটা ছিল রবিবার। যেহেতু নির্বাচন এমন এক সময়ে হয় যখন বেশির ভাগ লোক খামার বাড়িতে থাকে, বিশেষ করে সেপ্টেম্বরে, তাই ভোটারদের উপস্থিতি কম হত। করোনার সময়ে যাতে লোকজন ভিড় না করে, তাই ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিন দিন ব্যাপী ভোটের আয়োজন করা হয়। সেটা মানুষের মধ্যে এতটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করে যে পরে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে তিন দিন ব্যাপী নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সোভিয়েত আমল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এদেশের নির্বাচন বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্য দ...

বিজন ভাবনা - (৬২) সম্পর্ক

Image
মস্কোর বুক ভেদ করে বয়ে চলছে মস্কো নদী। স্মলেনস্ক-মস্কো মালভূমি থেকে যাত্রা শুরু করে কলোমনা শহরের ওখানে মস্কো নদী ওকা নদীতে বিলীন হয়েছে। ৪৭৩ কিলোমিটার (পুরানো খাতে ৫০২ কিলোমিটার) দীর্ঘ এই নদীর তীরে আজ থেকে ৮৭৯ বছর আগে মানে ১১৪৭ সালে মস্কো শহরের গোড়াপত্তন করেছিলেন ইউরি দোলগোরুকি। সন্দেহ নেই যে এর পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মস্কো নদী। কারণ সেই যুগে নদীই ছিল একমাত্র না হলেও যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ইউরি দোলগোরুকির নামের সাথে মস্কো বাদেও এই এলাকায় ছোট-বড় অনেক শহর গড়ার ইতিহাস জড়িত। এসব শহর ছিল তখন শত্রুর আক্রমণ থেকে ভ্লাদিমির ও সুজদাল রাজ্যের সীমান্ত রক্ষা ফাঁড়ি। রুশ শিল্পে, সাহিত্যে, বানিজ্যে ও লোককাহিনীতে ভোলগা বা দনের মত অত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল না করলেও শুধুমাত্র মস্কোকে নিজের পাশে গড়ে উঠতে দিয়েই মস্কো নদী রুশ দেশের ইতিহাসে, রুশ জনজীবনে যে ভূমিকা রেখেছে তাকে এদেশের অন্য কোন নদী ছাপিয়ে যেতে পারবে কি না সন্দেহ। মস্কো কানালের মাধ্যমে মস্কো নদী ভোলগার সাথে যুক্ত করা হয় গত শতকের তিরিশের দশকে। ফলে মস্কো নদীবন্দর হিসেবেও স্থান দখল করে নিয়েছে রাশিয়ায়। এই মস্কো নদ...