Posts

Showing posts from April, 2026

বিজন ভাবনা - (৪২) রাজনীতি

Image
বাংলাদেশের রাজনীতি মনে হয় বদ্ধ ডোবার মত। এক শ্রেণীর রাজনৈতিক দল সেখানে অনবরত জল ঘোলা করে আর সুযোগ মত সেই ঘোলা জলে মাছ ধরে, আরেক শ্রেণীর রাজনৈতিক দল জল ঘোলা দেখে দূরে সরে থাকে। যারা জল ঘোলা করে তারা মূলত ধর্মীয় মৌলবাদী শক্তি, যারা যথেষ্ট সফল ভাবে সাধারণ মানুষ নামের মাছদের শিকার করেই যাচ্ছে। আর বামপন্থী, প্রগতিশীল, সংস্কৃতি মনা মানুষ দিন দিন জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে এই নোংরা পরিবেশে রাজনীতি করতে পারছে না বলে। তবে এটা শুধু রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের ক্ষেত্রেই নয়, একটু শিক্ষিত, একটু স্বচ্ছল – সব ধরণের মানুষের ক্ষেত্রেই ঘটছে। একদল মানুষ নিজেদের আরব বিশ্বের অংশ হিসেবে প্রমাণ করার জন্য আদাজল খেয়ে লেগেছে, আরেক দল ব্যস্ত নিজেদের পশ্চিমা সভ্যতার অংশ হিসেবে প্রমাণ করতে। প্রথম দল বাংলা ভাষা, বাঙালির সংস্কৃতি অপছন্দ করে – তারা জোর করে এদেশে আরব্য সংস্কৃতি চালু করে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় আরও বেশি করে পোক্ত করতে চায়, এজন্য বাংলার বুক থেকে যা কিছু বাঙালি সব মুছে এখানে আরব্য সংস্কৃতি চালু করতে চায়। অন্য দল বাংলা, বাঙালিকে ভালবাসে, তবে বাংলার মানুষকে হয়তো ততটা ভালোবাসে না। তারা চায় পশ্চিমা বিশ্বের আলোকে দেখা পরি...

বিজন ভাবনা - (৪১) ভুলে যাওয়া যুদ্ধ

Image
মেগা শোয়ের আলোর ঝলকানিতে যেমন ছোট শো ম্লান হয়ে যায় ঠিক তেমনি উপসাগরীয় যুদ্ধের অস্ত্রের ঝনঝনানিতে ইউক্রেন যুদ্ধ চাপা পড়ে গেছে। কিন্তু তাই বলে যুদ্ধ শেষ হয়নি, শেষ হবার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইউরোপ যেভাবেই হোক যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে আগামী নভেম্বরেই কংগ্রেস ও সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা ফিরে আসবে, যদি তখন না হয় তবে তিন বছর পর ট্রাম্প বিদায় নেবেন। তাই এখন তাদের লক্ষ্য যুদ্ধের আগুন জিইয়ে রাখা আর কয়েক বছর পরে একযোগে রাশিয়া আক্রমণ করা। এটা আর তারা লুকিয়ে রাখে না, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতারা এটা এখন প্রকাশ্যেই বলে। যেহেতু বর্তমান যুদ্ধের মূল অস্ত্র ড্রোন তাই তারা নিজ নিজ দেশে ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপন করছে। ঘোষণা দিয়েছে আগামী এক বছরে ইউক্রেনকে ১২০ হাজার ড্রোন সরবরাহ করার কথা। প্রায় প্রতিদিনই রাশিয়ার বিভিন্ন শহরের বেসামরিক স্থাপনা, বাড়িঘর ইউক্রেনের ড্রোন আক্রমণের শিকার হচ্ছে। আর এসব অস্ত্র সরবরাহ করছে ইউরোপ। মুখে যতই মানবতার কথা বলুক ওদের কাছে ভালো রুশ হল মৃত রুশ। তাই ইউরোপ সর্বতোভাবে চেষ্টা করবে ইউক্রেনের হাত দিয়ে যত বেশি সম্ভব রুশ হত্যা করতে, এদেশের অর্থনীতি ধ্বংস করতে,...

বিজন ভাবনা - (৪০) আওয়ামী লীগ

Image
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হল। এতে কার কি লাভ হল জানি না তবে বাংলাদেশের রাজনীতির যে ক্ষতি হল তাতে সন্দেহ নেই। কোন দল রাজনীতি করবে কি করবে না সেটা জনগণের হাতে ছেড়ে দেয়াই রাজনীতির নিয়ম। আমরা যে স্বৈরাচারের কথা বলছি – দেশের কোন দল সেই দোষে দোষী নয়, বিশেষ করে যারা ক্ষমতায় ছিল? এমনকি যারা ক্ষমতা থেকে বহু দূরে সেসব দলেও ভেতরেও নেতাদের স্বৈরাচারী মনোভাব হরহামেশাই দেখা যায়। এই নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশে সুস্থ রাজনীতির পথ আপাতত বন্ধ করে দিল। অথচ মানুষ ভেবেছিল নির্বাচিত সরকার এলে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশের সব সমস্যা, তা সে দুর্নীতি হোক আর ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা হোক, সব কিছুর মূলে রয়েছে অসুস্থ রাজনীতি। রাজনৈতিক দলগুলো গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতার হস্তান্তরে বিশ্বাস করে না বলেই তারা প্রতিনিয়ত এমনকি দেশদ্রোহী শক্তির সাথে আঁতাত করে, অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে শত্রু হিসেবে দেখে। আর এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন মৌলবাদী শক্তি যারা গণতন্ত্র তো দূরের কথা, এমনকি দেশের সংবিধানে পর্যন্ত বিশ্বাস করে না, দিব্যি দেশের এমপি হয়, মন্ত্রী হয়। কয়েক দিন আগে এসব নিয়েই কথা হচ্ছিল এক বন্ধুর...

বিজন ভাবনা - (৩৯) প্রসঙ্গ শ্রমিক শ্রেণীর একনায়কত্ব

Image
গত সপ্তাহে “কাউয়া” শিরোনামে লেখাটির উপর বেশ কিছু প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। আজকের আলোচনায় সেসব নিয়েই কিছু কথা বলব বলে ভাবছি। একটা প্রতিক্রিয়া ছিল এ রকম। আওয়ামী লীগ যদি ধ্বংস হয়ে যায় এবং ওদের ভোট যদি ইসলাম পন্থিদের + বিএনপির ঘরে না যায় সেটা কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতির এক ধরণের ইতিবাচক রূপান্তর। কিন্তু সেটা কি বাস্তবে সম্ভব? মুজিব, হাসিনা অনেক খারাপ কাজ করলেও তাকে পাকিস্তান আর্মি + রাজাকারের সংগে তুলনা করা কিন্তু কমিউনিস্টদের ফ্যাসিস্টদের সংগে তুলনা করার পথ তৈরি করে, স্ট্যালিন, হোক্সা বা পলপট মাও এর সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময়ে বিপ্লবীদের ভাষায় প্রতিবিপ্লবী দমন প্রক্রিয়ার ইতিহাস নিয়েও কিন্তু প্রশ্ন আছে। গরবাচেভের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের পক্ষে যারা ঐ সময় পত্রিকায় লিখেছিলেন তাদের বর্তমান অনুসারিরাই কিন্তু কোন মুক্ত আলোচনা শুরু হলে বিলোপবাদের ট্যাগ লাগান। এই অবস্থায় করণীয় কি হতে পারে ? সমস্যাটা যতটা না সমালোচনায় তারচেয়ে বেশি এর অতিরঞ্জিত বয়ানে। যোশের বশে কারো মাত্রাতিরিক্ত সমালোচনা অন্যদের একই রাস্তায় হাঁটার পথ খুলে দেয়। যেমন হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃতিতে যা নিয়ে গত সপ্ত...

বিজন ভাবনা - (৩৮) কাউয়া

Image
বিগত প্রায় দুই বছর ধরে চব্বিশ আর একাত্তরের দ্বন্দ্ব থামছেই না। এটা নতুন করে জ্বলে উঠেছে উদীচীর একাংশের ইয়াহিয়ারূপী হাসিনার প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের পরে। এটা শুধু ইয়াহিয়া আর হাসিনাকে এক করা নয়, দুটো ঘটনাকে এক করে দেখার প্রয়াস। অন্তত স্বার্থান্বেষী মহল এ ঘটনাকে তাদের পক্ষে ব্যবহার করতে পারে যেমন এর আগে বামদের আওয়ামী সরকার বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন তারা নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করে ফসল ঘরে তুলেছে। কোন ঘটনার মূল্যায়ন করতে হলে তার গুণগত ও পরিমাণগত দুটো দিকই বিবেচনায় নেয়া আবশ্যিক। দুটো ভিন্ন মাত্রার অপরাধের ঘটনাকে একই পাল্লায় দাঁড় করানো মানে অধিকতর গুরুতর অপরাধের পক্ষ অবলম্বন করা। তাহলে কি বুঝতে হবে যারা হাসিনা ও ইয়াহিয়ার অপরাধ এক পাল্লায় মাপে তারা ইয়াহিয়ার পক্ষে? তারা রাজাকার? রাজাকার না হলেও এটা সত্য যে বুঝে বা না বুঝে তারা যে রাজাকারদের পক্ষে কাজ করছে এ নিয়ে কোন দ্বিমত নেই। ছোটবেলায় মানুষের বন্ধুত্ব হয় কোন রকম পূর্ব শর্ত ছাড়াই। পাড়ার বা স্কুলের সাথী। একসাথে খেলাধুলা, পড়াশোনা করতে করতে বন্ধুত্ব তৈরি হয়। একটা বয়সের পরে এসব বন্ধুত্ব হালকা হয়ে যায়, বিশেষ করে সবাই যখন কলে...