Posts

Showing posts from June, 2026

বিজন ভাবনা - (৫০) যুদ্ধের রোজনামচা

Image
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইউক্রেন ব্যাপক ভাবে রাশিয়ার উপর ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই মস্কোর আশেপাশে শ’ খানেক ড্রোন ভূপাতিত করা হচ্ছে। কতগুলো ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে সেটা অবশ্য জানা যায় না। তবে রাশিয়া বিশাল দেশ। যেখানে ইসরাইল আয়তনে অনেক ছোট হয়েও ও দীর্ঘ দিন যাবত বিখ্যাত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা “আয়রন ডোম” গড়ে তুলেও ইরানের সব রকেট প্রতিহত করতে পারছে না, সেখানে রাশিয়ায় যে কিছু রকেট লক্ষ্যভেদ করবে, সেটা তো স্বাভাবিক। তবে যেহেতু মাঝে মধ্যেই এখানে সেখানে অগ্নিকান্ডের খবর পাওয়া যায়, তাই সব না হলেও এসবের কিছু অংশ যে ড্রোন আক্রমণে হলেও অবাক হবার কিছুই নেই। তবে যুদ্ধের সময় জনগণকে প্যানিকগ্রস্থ না করা যেকোনো সরকারের দায়িত্ব। সতর্ক থাকতে হবে, কিন্তু ভয় পেলে চলবে না। তাই সরকার যদি এসব খবর নাও দেয়, এতে অন্যায়ের কিছু নেই। যখন ট্রাম্প বলছেন, ইরানের সাথে চুক্তি করে তিনি এখন ইউক্রেনের দিকে মনোযোগ দেবেন, তখন কেন এই আক্রমণ? জি-৭ এর সামিটের আগে বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায়, কলেজের হোস্টেল, বেলারুশের স্কুল ছাত্রদের বহনকারী যাত্রীবাহী বাস শুধু নয়, পিতেরবুরগ ইকোনোমিক্য...

বিজন ভাবনা - (৪৯) যুদ্ধের গতিবিধি

Image
ঘুম ভাঙতেই বন্ধুদের মেসেজ পেলাম – - মস্কো এয়ারপোর্ট বন্ধ কেন? এই এক মজার ব্যাপার। মস্কো এয়ারপোর্ট বন্ধ তার জবাবদিহি করতে হবে আমাকে। রাতের অন্ধকার ভেদ করে এন্টি এয়ার ডিফেন্স কাজ করল, গুলিয়া সাথে সাথে আমার কাছে জবাব চায়। মহা মুস্কিল। যাহোক, এর আগে অবশ্য মস্কো মেয়রের অফিস থেকে মেসেঞ্জারে জানিয়েছে যে আজ (১০ জুন ২০২৬) সকাল থেকে মস্কো ও মস্কো রিজিয়নের ১৯৪ টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। গুলিয়া বলল, সকালের দিকে পর পর ৬টি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছে। ঘুম থেকে উঠে চা খাচ্ছি, বিস্ফোরণের শব্দে ঘর কেঁপে উঠল, বাড়ির সামনে ঘুমিয়ে থাকা গৃহহীন গাড়িগুলো তারস্বরে চিৎকার করতে শুরু করল। বাইরে তাকিয়ে দেখি কালো ধোঁয়ার লাইন চলে গেছে আমাদের বিল্ডিঙের পাশ দিয়ে। বুঝলাম, শহরের উত্তরপূর্ব দিকে অবস্থিত এন্টি এয়ার ডিফেন্সের রকেটগুলো শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত ড্রোন নির্মাণ কেন্দ্র আক্রমণকারী ইউক্রেনিয়ান ড্রোন ধ্বংস করেছে। সাধারণত দুটো শব্দ হয়। প্রথমটা কর্কশ। এটা রকেটের লক্ষ্যভেদের শব্দ। দ্বিতীয় শব্দটা ভোঁতা, ড্রোন পড়ার। যাহোক, বন্ধুদের জানালাম যে এয়ারপোর্ট বন্ধের কারণ হল ইউক্রেনের ড্রোন আক্রমণ। আসলে অনেক দিন ধরেই এয়...

বিজন ভাবনা - (৪৮) শান্তির জন্য যুদ্ধ?

Image
অনেক আগে থেকেই রাশিয়ায় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাত, প্রচণ্ড গরম বা ঠাণ্ডা পড়ার কথা এসএমএস করে জানিয়ে দেয়া হয়। কয়েক দিন আগে হঠাৎ করেই ড্রোন আক্রমণের সম্ভাবনা জানিয়ে সবাইকে সতর্ক করে দিল কর্তৃপক্ষ। এসব সতর্কবার্তা আগে সাধারণত এয়ারপোর্টে জানানো হত। তবে ইদানিং কালে যাত্রীবাহী বাসে, ট্রেনে পরিকল্পিত ভাবে ইউক্রেনের ড্রোনের আঘাতের পরে সরকার সাধারণ মানুষকেও সতর্ক করে দিচ্ছে। গত কয়েক দিন হল অবশ্য নিয়মিত মস্কো ও আশেপাশে ড্রোন ভূপাতিত করার খবর দিচ্ছে। আগে সাধারণত এসব আক্রমণ হত রাতের বেলায়। এখন সারাদিনই প্রায় ৩০ টি করে ড্রোন ভূপাতিত করার খবর দিচ্ছে সরকার। এ থেকে বোঝা যায় পশ্চিমা বিশ্ব এখন ২৪/৭ সুত্রে রাশিয়াকে বিভিন্ন ভাবে আক্রমণ করে ব্যতিব্যস্ত রাখার কৌশল গ্রহণ করেছে। এসব দেখে মনে হয় শান্তি সুদূর পরাহুত। কয়েক দিন আগে পিতেরবুরগ ইকোনোমিক ফোরামে প্রেসিডেন্ট পুতিন বর্তমান কালের কিছু ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন মাত্র কয়েক দিন আগে এক রুশ ব্যবসায়ী তাঁকে জিলেনস্কির আমন্ত্রণে কিয়েভ যাওয়ার কথা জানান। তিনি আপত্তি করেননি। সেখান থেকে ফিরে সেই ব্যবসায়ী জানান জেলেনস্কি পুতিনের সাথে দেখা কর...

বিজন ভাবনা - (৪৭) যাত্রী একই তরণীর

Image
সোভিয়েত আমলে মস্কো ছিল মস্কোপন্থী কমিউনিস্টদের মক্কা। হজ্ব করার মতই বামপন্থীরা এখানে আসতেন লেনিনের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো দেখে ও স্থানীয় পার্টি নেতা ও রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের আলোচনা শুনে বিপ্লবের স্বপ্ন ও আবেগকে আরও ধারালো করতে। সমাজতন্ত্রের পতনের পর মস্কোগামী তীর্থযাত্রীদের স্রোতে ভাটা পড়ে আর একসময় তা শুকিয়ে যায়। তবে ইদানিং কালে মস্কো বিভিন্ন প্রশ্নে নিজেদের চিন্তা ভাবনা, নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি অন্যদের কাছে সরাসরি পৌঁছে দিতে আগ্রহী বিধায় বিভিন্ন ফোরামের আয়োজন করে। যদি আগে এসব ফোরামে সোভিয়েত দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করা হত তবে এখন রাশিয়া মূলত নিজেদের চিন্তা ভাবনা অন্যদের কাছে তুলে ধরে, যা নিয়ে অনেক সময় বাকবিতন্ডা হয়। নিজেদের মত চাপিয়ে দেয়া নয়, অন্যদের এ বিষয়ে অবহিত করাই মূল উদ্দেশ্য। আর এই সূত্র ধরেই দেশের বামপন্থী নেতারা এদেশে আসেন। আমরাও সুযোগ পাই দেশের পরিস্থিতি নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করার। এরকম এক আয়োজনে, সঠিক ভাবে বলতে গেলে রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির আয়োজিত ফ্যাসিবাদ বিরোধী এক ফোরামে যোগ দিতে সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন মস্কো এসেছিলেন। ওর দেখা করেছি, গল্পগুজব করে...