Posts

Showing posts from January, 2026

বিজন ভাবনা - (২৯) গণভোটে – হ্যাঁ না না

Image
গত পর্বে আমরা প্রশ্ন রেখেছিলাম মানুষ কেন রাজনীতিবিদদের বিশ্বাস করবে? আজ সেসব নিয়েই কথা বলব। সামাজিক মাধ্যমে এরকম ক্লিপ দেখা যাচ্ছে যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তো অনেক দেখলেন, এবার জামায়াতকে ভোট দিয়ে দেখেন। এ রকম রিপোর্টও দেখা যাচ্ছে যে জামায়াত শিবির শ্রমজীবী মানুষকে আর্থিক সাহায্য দিচ্ছে তাদের হয়ে প্রচার করার জন্য। এর মানে, তারা নির্বাচনে জেতার জন্য আদা জল খেয়ে মাঠে নেমেছে। এছাড়াও আছে প্রাশাসনিক শক্তি। যদি কেউ ভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের সহজেই টেক্কা দেয়া যাবে সেটা হবে ভুল ধারণা। তাই এই অপশক্তির বিরুদ্ধে খুব সতর্কতার সাথে মাঠে নামতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে যে জামায়াতকে নতুন করে দেখার কিছু নেই। একাত্তরেই তাদের চেহারা আমাদের চেনা হয়ে গেছে। শুধু একাত্তর কেন আশির দশক থেকে রগ কাটার রাজনীতি করে শিবির দেখিয়েছে যে তারা আল বদর, রাজাকারদের দেখানো পথ থেকে এক চুলও সরে আসেনি। তাছাড়া যদি বাংলাদেশের ইতিহাসের দিকে তাকাই এই একই চিত্র আমরা দেখব। নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে বলতে গেলে দেশ চালিয়েছে দুই দল - বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। ১৯৯১ - ১৯৯৬ সালে বিএনপির প্রথম টার্ম আর জামায়াতের সাথে আঁতাত করে ২০০১ – ২০০৬ পর...

বিজন ভাবনা - (২৮) নির্বাচন – “হ্যাঁ” না “না”

Image
সোভিয়েত ইউনিয়নে আর্মেনিয়ান রেডিও বলে এক হিউমারিস্টিক প্রোগ্রাম ছিল। সেখানে শ্রোতারা বিভিন্ন প্রশ্ন করত আর রেডিও থেকে তার উত্তর দেয়া হত। এক শ্রোতার প্রশ্ন ছিল - যদি কেউ ধর্ষণ করতে চায় তাহলে কি করা উচিৎ। উত্তর - যদি এড়ানো সম্ভব না হয় তবে উপভোগ করা। আপাত দৃষ্টিতে এটাকে একটি স্থূল চুটকি মনে হতে পারে। তবে সোভিয়েত ইউনিয়নে বাকস্বাধীনতা ছিল সীমিত তাই এরকম সাংকেতিক ভাষায় মানুষ তাদের মনের ভাব প্রকাশ করত। এই চুটকির একটা অর্থ হল - যদি সরকারি আদেশ অমান্য করা না যায় তবে সেটাকে যতদূর সম্ভব নিজের কাজে লাগানো উচিৎ। কথাটি মনে পড়ল দেশের নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির পর্যালোচনা করতে গিয়ে। কারণ মনে হচ্ছে অনেকেই নিজের সমস্যা সমাধানে বা স্বার্থ রক্ষায় এত ব্যস্ত যে বৃহত্তর ছবিটা দেখতে পাচ্ছে না। এটা ঠিক যে পারফেক্ট বলে কিছু নেই, তবে চেষ্টা করা উচিৎ সেটা অর্জন করার। কিন্তু সবসময় বিজয় দিয়েই সবকিছু বিচার করা ঠিক নয়, পরাজয়ের ক্ষতিটা কতটুকু কমানো গেছে সেটাও হিসেবে নেয়া দরকার। আর এই হিসাব যখন সামনে আসে তখন পরাজয়ের মধ্যেও জয়ের চিহ্ন দেখা চায়, সেটাকে সম্বল করে সামনের দিকে যাওয়া যায়, ভবিষ্যৎ বিজয়ে...

বিজন ভাবনা - (২৭) ইরান

Image
ইরান জ্বলছে - ভেতরে বাইরে সর্বত্র। এই আগুনের কারণ যেমন আভ্যন্তরীণ সমস্যা ঠিক তেমনি এর পেছনে যে বহির্বিশ্বের হাত নেই সেটাও হলফ করে বলা যাবে না। তবে একথা ঠিক যে ইরানের মানুষের জন্য বর্তমান ইসলামী শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন বিকল্প নেই, কিন্তু সেই মুক্তি যে নতুন কোন দুঃশাসন চাপিয়ে দেবে না সেটাই বা কে জানে। কারণ সেদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটা ২০২৪ সালের বাংলাদেশের মত। আওয়ামী শাসনের শেষ দিকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল বলতে কিছু ছিল না কারণ বিরোধী দলকে ধ্বংস করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনীতিকেই ধ্বংস করে ফেলেছিল। ইরানের অবস্থা শুধু তাই নয়, তারচেয়েও শতগুণ খারাপ। সেই ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই সেখানে সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। বাংলাদেশে যেমন রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগে মৌলবাদী শক্তি ক্ষমতা দখল করেছে ইরানেও যে তেমনি এই শূন্য স্থান পূরণে আরও বেশি উগ্রবাদীরা ক্ষমতায় আসবে না সেটা কি হলফ করে বলা যাবে? এটা মনে হচ্ছে এ কারণে যে বিগত প্রায় দুই যুগে যে সব দেশে এরকম বিপ্লব হয়েছে প্রায় সব দেশেই জনগণ ঠকেছে, ক্ষমতা চলে গেছে মৌলবাদী বা ফ্যাসিবাদীদের হাতে। এবং এসব হয়েছে পশ্চি...

বিজন ভাবনা - (২৬) ভেনেজুয়েলা

Image
আমেরিকা সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোনাস মাদুরোকে সস্ত্রীক বন্দী করে নিউ ইয়র্কের আদালতে হাজির করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে নারকো-ট্র্যাফিক সহ বিভিন্ন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ যে অজুহাত মাত্র সেটা বুঝতে কারও বাকি নেই। ইরাক আক্রমণ করার সময়ও সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে মারণাস্ত্র রাখার অভিযোগ করা হয়েছিল। কী ইরাক, কী ভেনেজুয়েলা – সব ক্ষেত্রেই ভূ-রাজনীতির পাশাপাশি ছিল তাদের বিশাল তেলের মজুদ। তবে আজকাল সত্যের বাজার মন্দা, সেটা সহজে কেউ খেতে চায় না। তাই মিথ্যাকে বিভিন্ন মোড়কে সত্য বানিয়ে বিক্রি করতে হয়। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেটাই করেছেন। হুগো শ্যাভেজের সময় থেকেই ভেনেজুয়েলাকে শায়েস্তা করার অদম্য ইচ্ছা পোষণ করেছেন আমেরিকার সব প্রেসিডেন্ট, সব প্রশাসন। সেই খায়েশ আপাতত পূরণ হয়েছে। আর একই সাথে যারাই আমেরিকার শোষণ যন্ত্রের চলার পথে কাঁটা ছড়ায় তাদের মনে সাময়িক ভাবে হলেও ভয় ঢোকানো গেছে। দীর্ঘ দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে মাত্র ঘন্টা খানেকের মধ্যে এই অভিযান সফল করা হয়েছে। এতে একই সাথে শতাধিক বিমান অংশ নিয়েছে, সাথে ছিল নৌবহর আর শত খানেক কিউবান ও ভেন...

বিজন ভাবনা - (২৫) জন্মদিন

Image
এই লেখাটি বেরুবে দোসরা জানুয়ারি, ২০২৬। যদিও এই মুহূর্তে লেখার অনেকগুলো বিষয় ছিল কিন্তু ভেবে দেখলাম সব দোসরা জানুয়ারি শুক্রবার নয়। তাই আজকের বিজন ভাবনায় নিজের কথা কিছু বলি। অবশ্য দোসরা জানুয়ারি এক সময় একটি সাধারণ দিন ছিল যা না চাইলেও মনে রাখতে হত, ব্যবহার করতে হত। আর তার কারণ আমাদের সময়ে মানুষের জন্মদিন হত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মর্জি অনুযায়ী। সে সময় আমাদের দেশের খুব কম মানুষই নিজেদের জন্মদিন জানত বা পালন করত। সাধারণত বলত অমুক বন্যার বা ঝড়ের বা দুর্যোগের বছর অমুক মাসে জন্ম। শহরে অথবা শিক্ষিত পরিবারে চল থাকলেও সাধারণ মানুষ জন্মদিনের হিসেব বলতে গেলে রাখতই না। তাই আমাদের সময়ের লোকদের দেখা যায় আসল জন্মদিন একটি আবার সার্টিফিকেটে আরেকটি। বিশেষ করে স্কুলে শিক্ষকগণ এটা করতেন যাতে দীর্ঘ সময় চাকরির বয়স থাকে সেটা হিসেব করে। কারণ আগে তো বটেই, এখনও আমাদের দেশে লেখাপড়া করার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য সরকারি চাকরি পাওয়া। তবে সময়ের সাথে সাথে সব কিছু বদলে গেছে, প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি এখন অনেক বেশি লোভনীয়। তাছাড়া ঘরে ঘরে এসেছে জন্ম নিবন্ধন। ফলে এখন আর জন্ম তারিখ নিয়ে আগের মত আর অংক কষতে হয় না। আম...