Posts

Showing posts from March, 2026

বিজন ভাবনা - (৩৬) বঙ্গবন্ধু

Image
গত ১৭ মার্চ ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। ২০২০ সালে তাঁর জন্ম শতবার্ষিকী পালন করা হয় অনেক উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে। আসলে আওয়ামী লীগের শাসনামলে দিনটি সরকারি ভাবে পালন করা হত। এদিন দেশে ও বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ দুতাবাসে শিশু দিবসের আয়োজন করা হত। তবে ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পরে বঙ্গবন্ধু এই বঙ্গভূমিতে আবার ব্রাত্য। তবে এটাও ঠিক যে প্রায় সব সরকারই তাঁকে ব্রাত্য করতে চেয়েছে, কিন্তু তিনি বার বার সমহিমায় ফিরে এসেছেন। বঙ্গবন্ধু বলি বা শেখ হাসিনা বলি বা আওয়ামী লীগ বলি - সবার ভাগ্য অনেকটা সেই সন্তানের মত যার বাবা ইহুদি আর মা অন্য ধর্মের। শুনেছি এক সময় ইহুদিরাও অন্যদের মত পিতার পরিচয়ে সন্তানের ধর্মীয় পরিচয় নির্ধারণ করত। কিন্তু চারিদিক থেকে তাড়া খেয়ে যখন তাদের জাতীয় অস্তিত্ব বিপন্ন হয়, তখন তারা ঠিক করে যে তাদের সন্তানের পরিচয় হবে মায়ের পরিচয়ে – মানে ইহুদি মায়ের সন্তান হবে ইহুদি। পক্ষান্তরে অন্যান্য ধর্মের সন্তানের পরিচয় হয় পিতার পরিচয়ে। ফলে ইহুদি বাবার ছেলে ইহুদি পরিচয় পায় না যেমন মায়ের পরিচয়ে পায় না অন্য ধর্মের পরিচয়। এখন অবশ্য এ নিয়ে কোন সমস্যা নেই, তবে এক সময়, যখন ধর্মীয় পরিচয় সমাজ...

বিজন ভাবনা - (৩৫) অভিমন্যু

Image
মহাভারতে আমার প্রিয় চরিত্রের একটি অভিমন্যু। অর্জুন ও সুভদ্রার ছেলে অভিমন্যু ছোটবেলা থেকেই যুদ্ধ বিদ্যায় পারদর্শী ছিল। কিন্তু আসল পরীক্ষা আসে কুরুক্ষেত্রে যখন অর্জুন নারায়ণী সেনাদের সাথে যুদ্ধে ব্যস্ত ছিলেন। সেই সময় দ্রোণাচার্য চক্রব্যূহ তৈরি করেন যেখানে প্রবেশের পথ একমাত্র অর্জুন ছাড়া কারও জানা ছিল না। যুধিষ্ঠির চিন্তাগ্রস্থ। তখন অভিমন্যু এগিয়ে এসে বলে সে যখন মাতৃগর্ভে ছিল তখন পিতা অর্জুন মাকে এই ব্যুহে প্রবেশের পথ বলেন। কিন্তু এরপর মা ঘুমিয়ে গেলে সে ব্যুহ থেকে নির্গমনের কৌশল শিখতে পারেনি। তাই ব্যুহে ঢুকতে সে পারবে, কিন্তু বেরুতে পারবে কিনা তা জানে না। ভীম সহ সবাই তাকে আশ্বাস দেয়। সেই যুদ্ধে অভিমন্যু ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ, শল্য সহ সাত মহারথীকে পরাজিত করলেও শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে আসতে পারেনি। সাত মহারথীর যৌথ আক্রমণ ঠেকাতে না পেরে মৃত্যুবরণ করে। আমার অনেক সময় মনে হয় আমরা সবাই অভিমন্যু। কারণ জীবনে ছোট বড় শত শত বিজয় লাভের পরেও একসময় মৃত্যুর হাত ধরেই সবাইকে জীবন থেকে অবসর নিতে হয়। অভিমন্যুর কথা মনে পড়ল পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের গতিবিধি দেখে। আর সেই সাথে মনে পড়ল রাশান রুলেটের কথা। রাশান রুলেট এমন ...

বিজন ভাবনা - (৩৪) যুদ্ধের জয়গান

Image
রুশ দেশে একটি কথা আছে – অপ্রত্যাশিত ভাবে শীত চলে এল। হ্যাঁ, সবাই জানে শীত আসবে, এর জন্য প্রস্তুত হয়, হিটিং ব্যবস্থা চালু করে, গাড়ির চাকা বদলায়, শীতের জামা কাপড় বের করে। তারপরেও প্রথম বরফ মনে হয় সবাইকে অবাক করে দেয়। মুমূর্ষু রোগীর ক্ষেত্রেও তাই। এই যায় তো সেই যায়, তবুও শেষ পর্যন্ত যখন নিজের ও সবার কষ্টের অবসান ঘটিয়ে রুগী কাঙ্ক্ষিত স্বর্গের উদ্দেশ্যে উড়াল দেয়, সবাই হাহুতাশ শুরু করে, কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। একই জিনিস দেখব যুদ্ধের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে দীর্ঘ দিন ধরে যখন প্রস্তুতি নেয়া হয় তখন যুদ্ধ শুরু হলেই সবার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। আচ্ছা, ধরুন অনেক অর্থ খরচ করে বিয়ের আয়োজন হল, যদি শেষ মুহূর্তে বিয়ে ভেঙ্গে যায় তখন কি আপনি দুঃখ পাবেন না? এই যে এত ঢাকঢোল পিটিয়ে যুদ্ধের আয়োজন করা হল, বিমানবাহী জাহাজ আনা হল, এল শত শত বিমান, হাজার হাজার সৈন্য – খরচ হল বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার – এমতাবস্থায় যদি যুদ্ধ না হয়, মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের বিমান ও মারণাস্ত্র যদি তাদের কেরদানি দেখাতে না পারে – তাহলে মানসম্মান কোথায় থাকে? যুদ্ধটা শুধু শক্তি দেখান নয়, এখানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের লেনদেন, বলতে পারেন ল্যারেটারিতে যেসব মারণা...