বিজন ভাবনা - (১২) স্বচ্ছতা

আন্তোয়ান দ্য সেন্ট এক্সুপেরির ছোট্ট রাজকুমার বলেছিল, “তুমি যাকে বশ করেছ তার কাছে তুমি দায়বদ্ধ।” অন্য ভাবে বলতে গেলে সাগরেদের কাজকর্মের জন্য গুরু দায় এড়াতে পারেন না।

ভাবিনি যে সিপিবির কংগ্রেস নিয়ে আবার লিখতে বসব। তবে বাহাত্তরের সংবিধানের ব্যাপারে ক্কাফি রতনের বক্তব্য নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে সেটা এখনও কমেনি বরং এ নিয়ে বিতর্ক যেন বেড়েই চলছে। অন্তত ফেসবুকে বিভিন্ন লেখা দেখে সেটাই মনে হয়। পরবর্তীতে রতন সেই ভিডিও ফেসবুকে নিজের পেজে আপলোড করে যা থেকে মনে হয় সে এত মানুষের কথা ও যুক্তিতে কর্ণপাত তো করেইনি বরং নিজের অবস্থানে অটল রয়েছে। আবার পাশাপাশি অনেকেই ২০১৪ সালে বাহাত্তরের সংবিধানের উপর সেলিম ভাইয়ের একটি লেখা পোস্ট করেছে। শুধু সেটা বা বলি কেন। এমন কি ইদানিং কালের অনেক বক্তব্যেও সেলিম ভাই বাহাত্তরের সংবিধান পুনর্বহাল করার পক্ষে মত দিয়েছেন বলে আমার মনে হয়েছে। এখন যেহেতু সেলিম ভাই নিজে রতনের নাম সিপিবির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রস্তাব করেছেন এবং সংবিধান নিয়ে রতনের বক্তব্য সেলিম ভাইয়ের বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক বলে অনেকেই মনে করছে তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে সেলিম ভাই কি এখনও সংবিধান সম্পর্কে পূর্ব ধারণা পোষণ করেন বা বাহাত্তরের সংবিধানের চেতনা ধারণ করেন আর যদি করেন তাহলে তিনি কীভাবে এসব বক্তব্যের পরে রতনের নাম সিপিবির সাধারণ সম্পাদক পদের প্রস্তাব করেন আর যদি করেই থাকেন তিনি কেন এ ব্যাপারে রতনের সাথে কথা বলে তাকে বিষয়টি পরিষ্কার করতে বলছেন না। এর মধ্যে প্রথম আলোয় সিপিবির কংগ্রেস নিয়ে লেখা থেকে জানলাম ওখানেই রতনের ব্যাপারে প্রশ্ন উঠেছিল এই বক্তব্যের কারণেই। আমার ধারণা যদি সেখানেই রতন তার একটি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিত তাহলে জল এত দূর গড়াত না। মনে রাখতে হবে এটা শুধু ব্যক্তিগত ভালোলাগা মন্দ লাগার বিষয় নয় এটা সিপিবির মূল নীতির প্রশ্ন। বিশেষ করে সিপিবির নবনির্বাচিত সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন দীর্ঘ ভিডিও বার্তায় সংবিধানের বিষয়ে কথা না বললেও জানিয়েছেন যে এই প্রথমবারের মত সিপিবি বাংলাদেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মানে বাহাত্তরের সংবিধানকে তারা এড়িয়ে যেতে পারছেন না। অন্য দিকে একথাও মনে রাখতে হবে যে সেলিম ভাই আক্ষরিক অর্থেই মুক্তিযুদ্ধের পোস্টার বয়। কাঠের রাইফেল হাতে মার্চরত তার ছবি মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত যেকোনো স্মৃতির সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। ঠিক মুক্তিযুদ্ধের পরপরই জাসদ গঠনের মধ্যে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের দলত্যাগের শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট জিয়া স্বাধীনতা বিরোধীদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বহাল করে মুক্তিযুদ্ধের পৃষ্ঠে ছুরিকাঘাত করেন। কাদের সিদ্দিকী পর্যন্ত স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে হাত মেলান। এরকম এক সময়ে মুক্তিযুদ্ধের যে কয়জন আইকনিক ফিগার এখনও পর্যন্ত একাত্তরের মশাল উঁচু করে ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন সেলিম ভাই তাদের একজন। দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে সেলিম ভাইয়ের পরিষ্কার অবস্থান তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অনেকেরই মনে হয়েছে যে ২০২৪ এর পট পরিবর্তনের পরে এমনকি বিএনপির মির্জা ফখরুল ও ফজলুর রহমান যত স্পষ্ট ভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলেছেন সেলিম ভাই সেটা করেননি বা পারেননি।

ফেসবুকে ও বিভিন্ন গ্রূপে ভ্রাম্যমাণ আবদুল্লাহ আল ক্কাফি রতনের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমার লেখার উত্তরে রতন ব্যক্তিগত ভাবে আমাকে কয়েক মিনিটের একটা ভিডিও পাঠায়। সাথে এই চিরকুট

«দাদা ঠান্ডা মাথায় শুইনেন। তারপর বইলেন কোথায় আমি ৭২ এর সংবিধান ও চার মূলনীতির সমালোচনা ও প্রত্যাখ্যান করেছি। আমি সমালোচনা করেছি যে প্রক্রিয়ায় সংবিধান গৃহিত হয়েছিল তার। তাও করেছি বর্তমান সংবিধান সংস্কার কমিটির সংবিধান সংস্কার করার অধিকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে। আমি গত শীতে ৯ ডিসেম্বর এ বক্তৃতা করি আরো অনেক আলোচকের সাথে। সেখানে আমি ২৫/৩০ মিনিট আলোচনা করি। ইউটিউবে আছে সাড়ে সাত মিনিট। আপনাদের কেটে দিয়েছে ৪০ সেকেন্ড। ফলে পুরোটা না শুনলে বিভ্রান্ত হতেই পারেন। আপনি বিজ্ঞানী। লজিকাল মানুষ। লজিক্যালি ভাববেন।»

এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে অনেক কিছুই পরিষ্কার করে কিন্তু সবকিছু নয়। এটা ঠিক যে রতন সংবিধান সংশোধন কমিটির কাজকর্মের আলোচনার প্রেক্ষিতে এই কথাগুলো বলেছে তবে তার ঐ বলার মধ্যে বাহাত্তরের সংবিধান যে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে গৃহীত হয়নি তার একটা ইঙ্গিত রয়ে গেছে। এটা নিঃসন্দেহে যারা বাহাত্তরের সংবিধান বাতিল করতে চায় তাদের হাতে একটি তুরুপের তাস তুলে দেয়। এখানে উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করি যে সংবিধানের সংশোধন নিয়ে আমার কোন সমস্যা নেই। সংবিধান হল দেশের রাজনৈতিক চার্টার বা ঘোষণা যা সময় ও বাস্তবতার সাথে বদলাতে পারে তার জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে। এখানে উল্লেখ্য যে ভারত বা পাকিস্তানের সংবিধান প্রণীত হয়েছিল সেসব দেশের স্বাধীনতার অনেক পরে। সেখানে দীর্ঘ সময় নিয়ে পর্যালোচনার সুযোগ ছিল কারণ এরা স্বাধীনতা পেয়েছিল বৃটেনের সাথে আলোচনার মাধ্যমে যদিও এর আগে ছিল প্রায় দুই শত বছরের দীর্ঘ সংগ্রাম। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে তাই সেখানে দ্রুত সংবিধান প্রণয়ন করা অনেক জরুরী ছিল। প্রশ্ন এসেছে জনগণের অংশগ্রহণ নিয়ে। সত্তরের নির্বাচনে গঠিত গণপরিষদের সদস্যরা স্বাধীনতা সংগ্রামকে বৈধতা দেন, তাদের উদ্যোগে অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়, সেই সরকারের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়। এসব যদি আমরা মেনে নেই তাহলে সংবিধান প্রণয়নে এদের এক্তিয়ার নিয়ে কেন প্রশ্ন ওঠে? এখানে কিছু ঐতিহাসিক প্যারালেল টানা যায়। সবকিছুর পরেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্র শক্তির বিজয়ে স্তালিনের ভূমিকা ছিল অপরিসীম ও অপরিহার্য। সোভিয়েত ইউনিয়নের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে এদেশেই প্রথমে তার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। তবে সোভিয়েত আমলে না সোভিয়েত ইউনিয়ন না পশ্চিমা বিশ্ব কোথাও যুদ্ধ জয়ে সোভিয়েত ভূমিকা খাঁটো করে দেখা হয়নি। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর প্রথমে স্তালিনকে হিটলারের সমকক্ষ করা হয় পশ্চিমা বিশ্বে আর ইদানিং যুদ্ধ জয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা অস্বীকার করার চেষ্টা হয়। এভাবেই ঘটে ইতিহাস বিকৃতি। রতনের এই বক্তব্য শুনে ও ছোট ব্যাখ্যা দেখে মনে হয় ও বাহাত্তরের সংবিধানের বিরুদ্ধে নয়। তবে যেহেতু এই বক্তব্য অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে তাই আমি মনে করি সিপিবির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রতনের উচিত বাহাত্তরের সংবিধান বিষয়ে ওর মতামত পরিষ্কার করে তুলে ধরা। কারণ তার বক্তব্য বাহাত্তরের সংবিধান বিরোধীদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার সুযোগ আছে। আর রতন যেহেতু বাহাত্তরের সংবিধানের পক্ষে তাহলে এ ব্যাপারে তার বক্তব্য তুলে ধরার অসুবিধা কোথায়? মনে রাখতে হবে এনসিপি ও শিবিরের অনেক নেতা কর্মী যারা আওয়ামী জমানায় শেখ মুজিবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিল বর্তমানে তারাই এদেশ থেকে মুজিবের নাম মুছে দিতে অগ্রগামী। এটা দেশের রাজনীতিতে নতুন করে অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। তাছাড়া প্রশ্নটা আমি কতটুকু বুঝি বা বুঝি না সেখানে নয়, প্রশ্নটা সিপিবির কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার। আরও একটা কথা, ব্যক্তি রতন আমার বন্ধু। তার অনেক কিছুই আমি বন্ধু হিসেবে হজম করতে পারি। কিন্তু সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রতন একটি প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে তার কোন দুর্বলতা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার প্রশ্ন আসতে পারে না। এ নিয়ে খোলামেলা বলাই হবে বন্ধুত্বের পরিচয়। রাজনৈতিক নেতাদের জন্য ভুল বক্তব্য দেয়াটাই শুধু অপরাধ নয়, সঠিক বক্তব্য সঠিকভাবে বুঝাতে না পারাটাও অপরাধ। রাজনৈতিক অপরাধ।

যেহেতু সংবিধান প্রণয়নে জনগণের অংশগ্রহণের প্রশ্ন এসেছে তাই এ ব্যাপারে নিজের কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলি। আমি যখন এদেশে আসি তখন সেটা ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। সোভিয়েত ইউনিয়নের সংবিধান একাধিক বার পরিবর্তন করা হয়, তবে সেটা নতুন করে লেখা হয়নি, শুধু সময়ের সাথে নতুন সংস্করণ এসেছে বিভিন্ন পরিবর্তন সহ। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর নতুন সংবিধান লেখা হয় আমাদের চোখের সামনে। সেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা সামনে থাকলেও পেছন থেকে সব হয়েছে মূলত মার্কিন বিশেষজ্ঞদের দ্বারা। জাপান ও পশ্চিম জার্মানির সংবিধানও মার্কিন বিশেষজ্ঞরাই তৈরি করেছেন। ফলে বেশ কিছু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন রাশিয়ার দেশীয় আইনের চেয়েও বেশি প্রাধান্য পায়। সেসব ছিল রাশিয়াকে আইনি প্রক্রিয়ায় আটকানোর চেষ্টা থেকে। এ নিয়ে জন অসন্তোষ ছিল। কয়েক বছর আগে তাই সংবিধানে আবার পরিবর্তন আনা হয়। এ জন্যে কমিশন গঠন করা হয়। সেই কমিশন বিভিন্ন সংস্কারের প্রস্তাব আনে। সেটা পত্রিকায় ও অন লাইনে প্রকাশ করা হয় জনগণের বিবেচনার জন্য। যদি ভুল না করি তাহলে এক মাস ব্যাপী জনগণ তাদের যে কোন মতামত সেই কমিশনের কাছে পৌঁছে দেবার সুযোগ পায়। এরপর কমিশন সমস্ত মতামত যাচাই বাছাই করে সংশোধিত সংবিধান জনগণের কাছে পেশ করে ভোটে তা গ্রহণ বা বর্জন করার জন্য। এখানে যেমন ব্যক্তি মানুষ তার মতামত দিতে পেরেছে তেমনি পেরেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা গণ সংগঠন। রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির বেশ কিছু প্রস্তাব এখানে স্থান পেয়েছে। তাই ইচ্ছা থাকলে জনগণকে সম্পৃক্ত করা যায়। তবে সেটা শুধু সদিচ্ছার বিষয় নয়, এ জন্য দরকার বিশাল অর্থ আর স্বাধীন ভাবে জনগণের মতামত প্রকাশের পরিবেশ।

ইতিমধ্যে সেলিম ভাই বাহাত্তরের সংবিধান নিয়ে বলেছেন প্রয়োজনে সেখানে পরিবর্তন আসতেই পারে, তবে সেটা যেন প্রতিক্রিয়াশীল না হয়। হ্যাঁ, মার্ক্সবাদ পরিবর্তনশীল। তবে মার্ক্সবাদ শুধু পরিবর্তনের জন্য পরিবর্তন করলে হবে না, তা যে শোষণ থেকে মুক্তির দিক নির্দেশ দিয়ে গেছে অর্থাৎ সামাজিক সম্পদ বন্টনের যে প্রেসক্রিপশন দিয়ে গেছে পরিবর্তনটা সেই মুখী হতে হবে। না হলে তা হবে মার্ক্সবাদ বিরোধী কাজকর্ম। একটি গল্প বলি। জার্মানির চ্যান্সেলর নির্বাচিত হবার পরে এঞ্জেলা মেরকেল যখন প্রথম বার রাশিয়া আসেন, পুতিন তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন। সাথে ছিল তার কুকুর। পুতিন দীর্ঘ দিন জার্মানিতে ছিলেন, কুকুর বিড়ালের প্রতি জার্মানদের ভালোবাসার কথা জানেন। একটি বিশ্বস্থ পরিবেশ তৈরির জন্য তিনি কুকুর নিয়ে আসেন। কয়েক বছর আগে মেরকেল আত্মজীবনীতে সে কথা উল্লেখ করে পুতিনের সমালোচনা করেন। কারণ ছোটবেলায় তিনি কুকুর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন। পুতিন সেটা জানতেন না, তাকে জানানো হয়নি। বইটি বেরুনোর পরে পুতিন তার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন «এঞ্জেলা আমি সেটা জানতাম না। যদি আমার সেই কাজ তোমাকে এতটুকু কষ্ট দিয়ে থাকে যে জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থী।» কথাটি এ জন্যেই বললাম, রতন যে দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই বাহাত্তরের সংবিধান নিয়ে সেই বক্তব্য রাখুক না কেন তা তার কমরেড ও সমর্থকদের মনে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। এছাড়া ভারতের নাম উল্লেখ করাও ছিল রাজনৈতিক ভুল। কারণ কমিউনিস্ট পার্টি একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন, বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট পার্টি নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখে। যেহেতু রতনের সঠিক জানা ছিল না যে ভারতে সংবিধানের ভেটিং হয়েছে কিনা, তাই ভারতকে এখানে এভাবে জড়ানো মানে দেশে ভারত বিরোধী রাজনীতির দাউ দাউ করে জ্বলন্ত আগুনে আরও একটু ঘি ঢালা। সেটা দেশের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দুই পয়েন্ট এনে দিলেও ভারতীয় কমিউনিস্টদের কাছে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার ও পার্টির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে। এমতাবস্থায় নিজেকে সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা না করে বাহাত্তরের সংবিধানের প্রতি নিজের অবস্থানের কথা পরিষ্কার করে বলাই সবার জন্য মঙ্গল। কারণ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ক্কাফি রতন যেমন, কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আমরাও চাই পার্টি সমস্ত বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকুক, তার প্রগতিশীলতার আদর্শ ধরে রাখুক। আমরা সবাই চাই যারা পার্টিকে ভালবাসে তারা এক হয়ে কাজ করুক, নেতৃত্বের উপর সবার আস্থা থাকুক। আর এ জন্যেই এসব স্পর্শকাতর ব্যাপারে স্বচ্ছতা দরকার। আরও ভালো হয় যদি আবদুল্লাহ আল ক্কাফি রতনের পাশাপাশি সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটিও বাহাত্তরের সংবিধানের বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানান। আমি খুব আশা করব এই লেখা কেউ ব্যক্তিগত ভাবে নেবেন না। আপনাদের সাথে আমার কোন ব্যক্তিগত লেনদেন নেই, বন্ধন যা আছে সেটা পার্টিকে ঘিরেই। আর এই ভাবনা বা বক্তব্য পার্টির মঙ্গলের জন্যই। অন্তত সেই মানসিকতা থেকেই বলা।

সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা!

বিঃদ্রঃ লেখাটি প্রগতির যাত্রীতে ০৩ অক্টোবর ২০২৫ প্রকাশিত হয়েছে

বিজন ভাবনা (১২): স্বচ্ছতা  – বিজন সাহা https://share.google/tOb93Oji61LQRSPO3  

Comments

Popular posts from this blog

বিজন ভাবনা - (১১) সিপিবির কংগ্রেস ও কিছু কথা

বিজন ভাবনা - (২১) যুদ্ধ আর শান্তির গোল্লাছুট

বিজন ভাবনা - (২৫) জন্মদিন