বিজন ভাবনা - (৩০) বর্তমান নির্বাচন ও বাম রাজনীতি

জন্ম মৃত্যু পাশাপাশি চলে, এমনকি সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশেও মানুষ মরে। প্রশ্ন তাই মৃত্যুতে নয়, কীভাবে এই মৃত্যু আসে তাতে। বাংলাদেশে অস্বাভাবিক মৃত্যু কখনোই অভাবনীয় কিছু ছিল না তবে গত দেড় বছরে তার হার অস্বাভাবিক রকম বৃদ্ধি পেয়েছে, অর্থনীতির ভাষায় বললে অস্বাভাবিক মৃত্যুর বাজারে ঘটেছে অস্বাভাবিক মৃত্যস্ফীতি। এই পরিস্থিতিতেও যেটা খুব বেশি করে চোখে পড়ে তা হল সংখ্যালঘুদের অস্বাভাবিক মৃত্যু। বিগত কয়েক মাসে সেটা শুধু পরিমাণে নয়, হিংস্রতায়ও এক ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। পিটিয়ে হত্যা করে গাছে লাশ ঝুলিয়ে পুড়ানোর ঘটনা ঘটেছে আবার অর্ধমৃত অবস্থায় শরীরে আগুন দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী ছাত্রছাত্রী মারা গেছে নিজ নিজ হোস্টেলে। যদিও এই সময় সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের মানুষও মারা গেছে ও যাচ্ছে প্রচুর পরিমানে তারপরেও সংখ্যালঘুদের এসব মৃত্যু দেখে বুঝতে বাকি থাকে না যে অধিকাংশ হত্যা করা হয়েছে পরিকল্পিত ভাবে আর করা হয়েছে যতদূর সম্ভব বিভৎস ভাবে অন্যদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করার জন্য। সংবাদ মাধ্যমে এসব খবর যেভাবে প্রচার করা হয়েছে তাতে বিচারের দাবির চেয়ে ভীতির সঞ্চার বেশি প্রাধান্য পেয়েছে বলেই মনে হয়। বিশ্বের প্রতিটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মত বাংলাদেশকেও অমুসলিম নাগরিক মুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হয়। আর সেটা হচ্ছে কর্তৃপক্ষের মৌণ সম্মতিতে, হয়তোবা তাদের মেটিকুলাস পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। কেউ কেউ দেশের প্রায় প্রতিটি মুসলিম ও অমুসলিম জনসাধারণ যে অতীতে আত্মীয়তার সূত্রে আবদ্ধ ছিল সেটা স্মরণ করে এমপ্যাথির উপর জোর দিতে বলেছে। তবে সেটা তেমন কার্যকর হবে বলে মনে হয় না। এমপ্যাথির অভাব বলব না। তাহলে নয় মাসে ত্রিশ লক্ষ মানুষ হত্যা ও তিন লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করার পরেও দেশের এক বিরাট অংশের মানুষের কাছে পাকিস্তান কি এমনি এমনিই এমন জামাই আদরে ফিরে এসেছে, আসছে। এটা হয়েছে ধর্মকে পুঁজি করে। সাম্প্রদায়িক সমস্যা আগে যে ছিল না তা নয়, তবে সেটা এখন মহামারীর আকার ধারণ করেছে রাজনীতির উর্বর ভূমি পেয়ে। তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক ভাবেই এই সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে। এরজন্য দরকার রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি ও সেটা বাস্তবায়নে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা। আর তার জন্য দরকার দেশে রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।

আমি প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল বলতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে শুধু বোঝাইনি, যাদের এদেশে যথেষ্ঠ রাজনৈতিক সমর্থন ও সাংগঠনিক ভিত্তি আছে তাদের সবাইকে বুঝিয়েছি। ধর্মের নামে যে সর্বনাশা রাজনীতি এখন চলছে সেটা শুধু বাংলাদেশে নয়। আসলে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে আরব বিশ্ব, বিশেষ করে সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও কাতার নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে খুব সক্রিয়। আর এর ফলে শ্রমিকদের মাধ্যমে আমাদের সব দেশে উগ্র ইসলাম (বাহাভি ইসলাম) প্রসার লাভ করেছে। এটাই এখন বিশ্ব বাস্তবতা। ইউরোপ আমেরিকার সুপার মার্কেটে হালাল খাবার শুধু ব্যবসায়িক ব্র্যান্ড নয়, এটা ধর্মীয় অনুপ্রবেশ। একটা রাষ্ট্র শুধু ভৌগলিক এলাকা, কিছু মানুষ নয়, রাষ্ট্র একটি সংবিধান, কিছু প্রতিশ্রুতি ও দায়বদ্ধতা। যেমন কয়েক জন মানুষ একসাথে ওঠা বসা করলেই সংগঠন হয় না, দরকার গঠনতন্ত্র, তেমনি কিছু ভূমি আর জনগণ থাকলেই রাষ্ট্র হয় না, দরকার নির্দিষ্ট নীতিমালা – যার আরেক নাম সংবিধান। সেই অর্থে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের মূলে আছে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাহাত্তরের সংবিধান। সেখানে অবশ্য কিছু কিছু পরিবর্তন আসতেই পারে তবে ভিত্তিটা হতে হবে বাহাত্তরের সংবিধান ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। এটা যারা মানে তাদের আমি মনে করি বাংলাদেশ পন্থী। বর্তমান অচলাবস্থা বা বলা যায় উগ্র ধর্মীয় মিলিটারিজম থেকে বেরিয়ে আসার একটাই উপায় - বাংলাদেশ পন্থী সকল শক্তির ঐক্যবদ্ধ লড়াই এবং মৌলবাদী শক্তির পরাজয় নিশ্চিত করা। এজন্যে যদি এই মুহূর্তে সবাই, মানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, সিপিবি ইত্যাদি মিলে এমনকি বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে সেটাও হবে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। কারণ তার মানে দেশ আবার সাংবিধানিক ট্র্যাকে ফিরে যাবে। আর সংবিধান পরিবর্তনের জন্য গণভোটে সম্মিলিত না করা। তারা প্যাকেজ দিচ্ছে। এখন প্যাকেজ ঠেকিয়ে নির্বাচিত সরকারের হাতে পরিবর্তনের ভার দেয়া। সময় আমাদের পক্ষে নয়, যদিও মাথা খাটিয়ে ব্যবহার করতে পারলে অসময়ও সময় হয়।

সোভিয়েত আমলে সিপিবি সোভিয়েত বা রুশপন্থী বলেই পরিচিত ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর রাশিয়া আর সিপিবিকে আগের মত সাহায্য করেনি বা করে না। সময়ের সাথে সাথে তাই রুশ দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সিপিবি। বেড়েছে চৈনিক প্রভাব। সেটা বিগত দিনগুলোয় পার্টির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেই বোঝা যায়। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আমাদের সব বাম দল অর্থনৈতিক ভাবে নাজুক অবস্থায় আছে। তাই বিদেশি অনুদান তাদের প্রয়োজন। কিন্তু আদর্শের ব্যাপারটা ভুলে গেলে চলবে না। চীন তো সেই দেশ যে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। একাত্তরের ভুমিকা নিয়ে তারা কখনও দুঃখপ্রকাশ করেছে বলে জানি না। এখন তারা রাশিয়ার বন্ধু, কিন্তু তাই বলে নিজেদের সোভিয়েত বিরোধী ভুমিকা নিয়ে মোটেই অনুতপ্ত নয় যদিও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন মুখ থুবড়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের দ্বন্দ্ব। তাছাড়া বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে আগের সেই আন্তর্জাতিকতাবাদ আর অবশিষ্ট নেই। ইউরোপের অনেক পার্টি আন্তর্জাতিক রাজনীতি প্রশ্নে রুশ বা চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নীতির পরিবর্তে নিজ নিজ দেশের পুঁজিবাদী সরকারের নীতিই বাস্তবায়ন করতে চায়।

স্বাধীনতার পরে তো বটেই এমনকি স্বাধীনতার আগেও দেশ এতটা সাম্প্রদায়িক ছিল না। আর ছিল না বলেই সম্ভব হয়েছিল পাকিস্তানের দ্বিজাতিতত্ত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া, ধর্মনিরপেক্ষ দেশ গড়া। আজ যে ব্যাপক পরিবর্তন তার দায় কি বামদের একেবারেই নেই? আওয়ামী লীগ, বিএনপি - এদের দায় আছে, থাকাটাই স্বাভাবিক, কিন্তু সিপিবি সহ বাম দলগুলো কি পেরেছে তাদের ভুমিকা যথাযথ ভাবে পালন করতে? নাকি ক্ষমতার লড়াই করতে গিয়ে পার্টির বিভিন্ন গণ সংগঠনের মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি করেছে? আসলে ইতিহাস ভুলে গিয়ে শুধু মাত্র বর্তমানকে নিয়ে রাজনীতি করতে গেলে আখেরে ভাল কিছু হবে বলে মনে হয় না। আর ইতিহাস মনে রাখা মানে বাহান্ন, বাষট্টি, ঊনসত্তর, একাত্তর সব কিছুকে, সেই রাজনীতিতে সবার ভূমিকা মাথায় রেখেই রাজনৈতিক শত্রু মিত্র নির্ণয় করা। মনে রাখতে হবে যে বিশ্বের সমস্ত দেশের মত আমাদের জনপদেও ধর্ম চর্চা হয়ে আসছে প্রাচীন কাল থেকেই। ইসলাম এখানে এসেছে পরে, তবে মূলত সুফিদের হাত ধরে। বর্তমানে যে উগ্র ইসলাম আমরা দেখি সেটা এই অঞ্চলের প্রচলিত ইসলাম নয়, কিছু কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মের পোশাক পরে দেশের ইসলামকে বর্তমান পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। আর সেটা ঘটেছে বিগত ৩০ – ৪০ বছরে, মূলত আফগানিস্তানে সোভিয়েত সমর্থিত সরকারকে হঠাতে আমেরিকার তালিবান, আল কায়েদা এসব উগ্র ইসলামী রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী সংগঠন সৃষ্টির মধ্য দিয়ে। এর পেছনে আমাদের শ্রমিকদের আরব বিশ্বে কাজ করা সহ বিভিন্ন অব্জেক্টিভ কারণ যেমন ছিল, তেমনি ছিল দেশের মানুষের পালস বুঝতে বাম শক্তির ব্যর্থতা। বিশেষ করে আশির দশকে পার্টি যেভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল তারপর এই পতন ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছু বলা চলে না।

আমি বরাবরই সিপিবির নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে বলেছি। কারণ আমরা যদি গণতান্ত্রিক পথেই দেশে অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনতে চাই তাহলে নির্বাচনের বিকল্প নেই। বাংলাদেশের ইতিহাসে পার্টি সবচেয়ে শক্তিশালী ও গণমুখী ছিল আশির দশকে। বিভিন্ন কারণের একটি ছিল সংসদে প্রতিনিধিত্ব। চাই বা না চাই বাংলাদেশের মানুষ সংসদীয় দলকে ভিন্ন চোখে দেখে। তাছাড়া যদি লড়াইটা সংসদের ভেতরে ও বাইরে উভয় জায়গায় করা যায় সেটা ফলপ্রসূ হবার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু পার্টি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না এই অজুহাতে পূর্ববর্তী কয়েকটি নির্বাচন বয়কট করেছে। অফিসিয়াল বয়ান যাই থাক না কেন, মানুষ অন্তত এভাবেই দেখেছে। তখন বলেছি বাংলাদেশের বাস্তবতায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দল বিভিন্ন অজুহাতে নির্বাচন বয়কট করবে, তাহলে কি পার্টি কখনই নির্বাচনে যাবে না? আজ পার্টি নির্বাচনে গিয়ে তাদের পূর্ববর্তী নীতি বিসর্জন দিচ্ছে না তো? আগে আর যাই হোক বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা ছিল না, এবার আওয়ামী লীগকে সরকারি ভাবে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে। তারপরেও নির্বাচনে যাওয়া আমি শুভ বুদ্ধি বলেই মনে করি। কিন্তু সেখানে গিয়ে কী করব? অন্যান্য দল বরাবরই ভোটের রাজনীতি করে জনগণকে শ্রুতিমধুর বাক্য শোনায়। আমার বিশ্বাস এমনকি এবারও পার্টি নির্বাচনে ভাল ফলাফল করতে পারবে না। কিন্তু তারা চাইলেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে পরাজিত করার জন্য অন্যান্য দলের জন্য ভোট চাইতে পারে। এই সুযোগে একাত্তরের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে পারে। গণভোটে “না” ভোট দেবার প্রচারণা চালিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্ত রোধ করতে পারে বা না পারলেও সেই চেষ্টা করতে পারে। অদূর ভবিষ্যতে সিপিবি সহ বাম শক্তির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কিন্তু তারা বাংলাদেশে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় সুস্থ রাজনীতি মানে একাত্তরকে স্বীকার করেই রাজনীতি করা। আর সেক্ষেত্রে বামদের নির্বাচনী প্রচারণায় যদি জামায়াতের একাত্তরের ভুমিকা আওয়ামী লীগের বিগত দিনের স্বৈরাচারী ভুমিকার কাছে ঢাকা পড়ে যায় তাহলে সেটা হবে পক্ষান্তরে চব্বিশের দ্বারা একাত্তর আড়াল করে দেয়া। আমাদের বুঝতে হবে যে জামাত ও বর্তমান শাসক গোষ্ঠী আর বামদের আওয়ামী লীগকে অপছন্দ কারণ ভিন্ন। আওয়ামী লীগ জামায়াত শিবিরের কাছে সেই শক্তি যে পাকিস্তানের সাথে বিট্রে করেছে, পাকিস্তান ভেঙ্গেছে। এটাই আওয়ামী লীগকে তাদের অপছন্দের সবচেয়ে বড় কারণ। বামদের আওয়ামী লীগ পছন্দ না হবার কারণ এই দল একাত্তরের চেতনাকে কুক্ষিগত করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সেই চেতনার সাথে বিট্রে করেছে। বামেরা যদি পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশের জন্মকে স্বাগত জানায় তাহলে জামাতের বয়ান কিছুতেই তাদের বয়ান হতে পারে না। তাই এই নির্বাচন যদি তারা আওয়ামী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে সেটা হবে দুঃখজনক। বিশেষ করে সেই দল যখন নির্বাচনের মাঠে নেই। এখন তাদের একটাই কাজ একাত্তরে জামায়তের ভূমিকা মানুষের কাছে নতুন করে তুলে ধরা, বাংলার মাটি থেকে জামায়াতের রাজনীতিকে নির্বাসন দেয়া।

একজন ভালো ডাক্তার কোন রোগের ওষুধ দেওয়ার সময় দেখেন সেই ওষুধের সাইড এফেক্টটাকে কেমন। প্রতিটি সমস্যার একাধিক সমাধান থাকে। কিছু কিছু সমাধানের সাইড ইফেক্ট খুবই ক্ষতিকর, কোনটার কম। তাই সমাধান বেছে নিতে হলে সে কথাও মাথায় রাখতে হবে। একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি সেই সমাধান বেছে নেন যার সাইড ইফেক্ট মূল প্রাপ্তিকে ছাপিয়ে না যায়। ধরে নিতে পারি যে বামেরা বিশ্বাস করত যে হাসিনার স্বৈরাচারী সরকারের পতন দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এর সাইড ইফেক্ট যে জামাত শিবিরের শাসন তা হয়তো তারা সে সময় বুঝতে পারেনি, যদিও এই না বোঝা তাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সম্পর্কে প্রশ্ন করার সুযোগ দেয়। কিন্তু এত জল গড়ানোর পরে, বাংলাদেশ প্রায় ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবার পরেও যদি তারা নিজেদের ভুল বুঝতে না পারে তাহলে তারা কীভাবে নিজেদের সচেতন রাজনৈতিক কর্মী বলে দাবি করেন? ভুল করায় লজ্জা নেই, লজ্জা ভুলকে আঁকড়ে ধরে থাকায়। যত দ্রুত আমরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারব তত দ্রুত তার সমাধান করা যাবে। সমস্যা হল অনেকেই এটাকে ভুল মনে করে না। দেশ রসাতলে যাক, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হোক, হাসিনা তাড়িয়েছি এটাই সব ব্যর্থতা নিরাময়ের মলম। নেতাদের অনেকের এক পা এখন ইউরোপ আমেরিকায়, কিন্তু মরবে তো সাধারণ কর্মীরা। আজ যেমন স্বৈরাচারের দোসর বলে আওয়ামী লীগের কর্মীদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে সেটার প্রয়োগ আমরা অদূর ভবিষ্যতে দেখব সিপিবির কর্মীদের উপর। অবশ্য নেতারা হয়তো তখন অনেক দূরে থাকবেন। দুই জন খারাপের মধ্য থেকে কম খারাপ বেছে নেয় বুদ্ধিমানরা। আমাদের বামরা করে ঠিক তার উল্টোটা। ইতিহাস বলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা সবচেয়ে খারাপ অপশন বেছে নেয়। এটা মনে হয় অনেক তপস্যার ফল। নাকি এবার তাদের আক্কেল হবে, তারা চব্বিশের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সেটা শোধরানোর জন্য প্রথম পদক্ষেপ ফেলবে।

বিঃ দ্রঃ লেখাটি ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রগতির যাত্রীতে প্রকাশিত হয়েছে

বিজন ভাবনা: (৩০) বর্তমান নির্বাচন ও বাম রাজনীতি  -বিজন সাহা https://share.google/AIhcKOzMq6GDGJCOd  

Comments

Popular posts from this blog

বিজন ভাবনা - (১১) সিপিবির কংগ্রেস ও কিছু কথা

বিজন ভাবনা - (২১) যুদ্ধ আর শান্তির গোল্লাছুট

বিজন ভাবনা - (২৫) জন্মদিন