বিজন ভাবনা - (৩২) নির্বাচনের হিসাবনিকাশ

সমস্ত জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচন শেষ হল। এর আগে বিভিন্ন খবর দেখে মনে হচ্ছিল যে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন নাও হতে পারে, অন্য ভাবে বানচাল করতে না পারলে জামায়াত ও বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবে – এমন কথাও শোনা যাচ্ছিল আর মনে প্রশ্ন জাগছিল – এই যে অন্যান্য দলগুলো ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা টাকা পয়সা খরচ করে নির্বাচনে নামল তাদের কি হবে? তাদের ক্ষতিপূরণ দেবে কে? তবে ঘটনা সেদিকে মোড় নেয়নি। এবং বলতে দ্বিধা নেই – মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ভাবেই নির্বাচন শেষ হয়েছে। আমাদের দেশে নির্বাচন মানেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, প্রচুর প্রাণের অকালে ঝরে পড়া। এবারের প্রায় রক্ত শূন্য প্রচারণা থেকে আবারও প্রমাণিত হল নির্বাচনে সমস্ত ধরণের অরাজকতার সাথে জড়িত রাজনৈতিক দলগুলো। আমাদের দেশের মানুষ নির্বাচন চায় এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট দিয়ে নিজেদের পছন্দমত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। রাজনৈতিক দলগুলোই বার বার নিজেদের মধ্যে হানাহানি করে জাতির জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে। যদিও কথায় বলে যেমন জনগণ তেমন তার সরকার, কিন্তু সাধারণ মানুষ আবারও প্রমাণ করল তারা দোষী নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর অতিরিক্ত ও অন্যান্য ভাবে ক্ষমতা দখলের লোভই যত নষ্টের মূল।

দেশে আমার কখনই ভোট দেবার সুযোগ হয়নি, তবে ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদের হয়ে প্রচারণা করেছিলাম। ইন্টারনেটের যুগে বাইরে থেকে নির্বাচন নিয়ে কথা বলা সহজ হলেও এবারই মনে হয় প্রথমবারের মত খুব সচেতন ভাবেই সেটা করেছি। আর সেটা করেছি বাংলাদেশের পক্ষে এই মুহূর্তে যার অর্থ প্রত্যক্ষ ভাবে বিএনপির হয়ে প্রচারণা করা। বিএনপিকে আমি সমর্থন করেছি জীবনে প্রথম বারের মত। দুঃখজনক হলেও সত্য যে আজকাল প্রায় সব ক্ষেত্রেই মন্দের ভাল বেছে নিতে হয়। যদি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আমরা ক্রমাগত উৎকর্ষতার দিকে যাচ্ছি, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে চলছি তার উল্টো পথে। তা হচ্ছে প্রায় সব দেশেই। তবে এক্ষেত্রে আমি পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্রের মতই কাজ করেছি। ছাত্র জীবনে পদার্থবিদ্যা ও গণিতের ছাত্রদের নিয়ে এক চুটকি ছিল। ইনস্ট্রাক্টর দুই ছাত্রকে কীভাবে ইলেকট্রিক কেটলি ব্যবহার করতে হবে সেটা দেখাচ্ছে। যথারীতি সে খালি কেটলিতে জল ভরে তারপর প্লাগ অন করল। এরপর একজন পদার্থবিজ্ঞানের ও একজন গণিতের ছাত্রের হাতে জল ভরা দুই কেটলি দিয়ে চা বানাতে বলল। পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র কেটলির প্লাগ অন করে দিল। গণিতের ছাত্র প্রথমে কেটলির জল ফেলে দিয়ে নতুন করে তাতে জল ভরল, এরপর প্লগ অন করল। কেন? কারণ গণিতের ছাত্রের জন্য ইনিশিয়াল কন্ডিশন গুরুত্বপূর্ণ। তবে জীবনে সবসময় সেটা সম্ভব নয়। তাই যখন যে অবস্থায় আছি সেখান থেকেই শুরু করতে হয় আর যথা সম্ভব ভাল ফল পাবার চেষ্টা করতে হয়। তাই যদিও এবারের নির্বাচন সেই অর্থে প্রতিনিধিত্বমূলক ছিল না, তারপরেও তাকে মেনে নিয়েই কাজ করতে হয়েছিল। আমাদের মনে রাখতে হবে যে দেশের মানুষ প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনের জন্য রাস্তায় নেমেছিল। হাসিনা আমলে কয়েকবার নির্বাচন হলেও সেখানে বিএনপি সহ কিছু দল অংশগ্রহণ করেনি আর সেটাই মানুষকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে দূরে রেখেছিল। আর তাই যদি হয় তাহলে সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নির্বাচন হলেই তাতে মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটত। তারপরেও যখন আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হয়, তখন জামায়াত শিবিরকে ঠেকানোর জন্য বিএনপি ছিল একমাত্র বিকল্প। মানুষ সেটা অনুধাবন করেছিল আর সেজন্যেই বিএনপির পেছনে জড়ো হয়েছিল। সাংবাদিক নুরুল কবীরের ভাষায় নাকে রুমাল দিয়ে মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছিল। গত আঠারো মাসের চাঁদাবাজির দুর্গন্ধ এড়াতেই এই ব্যবস্থা। অন্য দিকে গত আঠারো মাসে দেশের দায়িত্বে ছিল মূলত জামায়াত। অনেকটা ডীপ স্টেটের মতই তারা ইউনুস ও উপদেষ্টাদের দিয়ে নিজেদের মত করে দেশ ভেঙেছে। মুক্তিযুদ্ধের যা কিছু অর্জন সব ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করার এক বিশাল পরিকল্পনা নিয়ে জামায়াত শিবির মাঠে নেমেছিল। সরকার, সেনা বাহিনী, প্রশাসন, ব্যাংক, হাসপাতাল, টিউশনি, সর্বশেষে বিশ্বাবিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ সব নিজেদের কুক্ষিগত করার পরেও শেষ পর্যন্ত জনতার ভোটে তারা পরাজিত হয়েছে। বাংলার মানুষ আবার তাদের না করেছে। তাই এদের সাথে আঁতাত মানেই মানুষের বিপক্ষে দাঁড়ানো।

সর্বশেষ ঘটনাবলী দেখে মনে হয় বিএনপি শুধু একাত্তরের পক্ষের শক্তির জন্য নয় একাত্তর বিরোধীদের জন্যেও মন্দের ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে আমাদের জন্য এটা যেমন বিকল্প হীন বিকল্প ছিল ওদের জন্য সেটা তেমন ছিল না। ওরা গত দেড় বছরে সবসময়ই উইন উইন সিচুয়েশনে ছিল - প্রশ্ন একটাই এক কোপে কলাগাছ কাটবে নাকি ধীরে সুস্থ্যে অনেক সময় নিয়ে সেটা করবে। আমাদের আশা ছিল বিএনপি ইউনুসের আমেরিকার সাথে দেশ বিরোধী বিভিন্ন চুক্তি পুনর্বিবেচনা ও বাতিল করবে। প্রতিপক্ষ চাইছে বিএনপির সাহায্যে সেসব চুক্তির সাংবিধানিক বৈধতা দিতে। তবে এই মুহূর্তে মনে হয় এই খেলায় ওরাই এগিয়ে আছে। খলিলুর রহমান মন্ত্রী সভায় অন্তর্ভুক্ত। এর মানে মন্ত্রী সভা তথা বিভিন্ন আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে মার্কিন স্বার্থ রক্ষার নীতি গৃহীত হবে। খলিলুর রহমান ডঃ ইউনুসের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে একাধিক বার ভারত সফর করেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নে কিছু কিছু সমঝোতায় আসতে সক্ষম হন। এ থেকে মনে হয় তার ব্যাপারে ভারতের সম্মতি আছে। অন্যদিকে মন্ত্রী সভায় ফজলুর রহমানের অনুপস্থিতি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ক্ষুন্ন করেছে। শোনা যাচ্ছে ডঃ ইউনুস এমনকি রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত হতে পারেন। এছাড়াও গুজব আছে যে জামাত ও এনসিপির কিছু নেতা হেরে গেলেও ইউনুসের পরামর্শে তাদের জিতিয়ে আনা হয়। এতে নাকি তারেক জিয়ার সায় ছিল। বাজারে যে সব খবর উড়ে বেড়াচ্ছে তার কতটুকু সত্য আর কতটুকু মিথ্যা সেটা বলা কঠিন। তবে এখনও পর্যন্ত সব দেখে মনে হয় বিএনপি আপাতত পুরানো দোস্তদের সাথেই পথ হাঁটছে। হতে পারে স্বেচ্ছায়, হতে পারে বাইরের চাপে।

জুলাই সনদের ব্যাপারে আপাতত শক্ত অবস্থান নিলেও যে সমস্ত সাংবাদিক, সংস্কৃতি কর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ মিথ্যা মামলায় জেলে আছেন এবং যাদের শারীরিক অবস্থা শঙ্কাজনক তাদের ব্যাপারে বিএনপির জোরালো বক্তব্য চোখে পড়েনি। ইউনুস গং ক্ষমতায় এসে প্রথমেই অনেক সন্ত্রাসীকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়। এমনকি অনেক সাজাপ্রাপ্ত আসামীদেরও ছেড়ে দেয়। আর সেই জায়গা পূরণ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অলীক অভিযোগ দাড় করিয়ে। এবার নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি মনে করলে বিএনপির দায় হবে এসব মানুষকে মুক্ত করা। আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও তারা পারতপক্ষে মৌনতা অবলম্বন করেছে। এটা ঠিক যে আজ হোক কাল হোক আওয়ামী লীগ ফিরে আসবেই, কিন্তু তারেক রহমান আগ বাড়িয়ে সেটা করলে রাজনৈতিক ভাবে লাভবান হতেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রায় নিষ্ক্রিয় ভূমিকা তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনেককেই সন্দিহান করে তোলে। কিন্তু প্রশ্নটা শুধু দল আওয়ামী লীগকে নিয়ে নয়। স্বীকার করি বা না করি এ দেশে এখনও আওয়ামী লীগের মত দলের রাজনীতি করার অবজেক্টিভ কারণ আছে। তাই আওয়ামী লীগ যদি নাও থাকে সেই ধরণের কোন না কোন দল ঠিকই গড়ে উঠবে। তাই প্রশ্নটা স্পেস দেয়া না দেয়ার বিষয় নয়, স্পেস আছে – কে সেটা দখল করবে সেটাই প্রশ্ন। সেটা দখল করতে হবে, কেউ এসে ডেকে বসাবে না। আর আওয়ামী লীগ যদি সেই স্পেস দখল করতে চায় তাহলে তাকে আত্মশুদ্ধির মধ্য দিয়ে যেতে হবে, ক্ষমতায় থাকাকালীন সে অযোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হয়েছিল আত্মীয়তা বা অর্থের জোরে সেই নেতৃত্বকে ঝেটিয়ে বিদায় করে পরীক্ষিত ও আদর্শিক নেতৃত্ব বেছে নিতে হবে। যে সমস্ত নেতারা দলে থেকে অন্য দলের বা গ্রুপের (হেফাজতে ইসলামী ইত্যাদি) এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে তাদের থেকে দলকে মুক্ত করতে হবে। মনে রাখতে হবে রাজনৈতিক দল ব্যবসায়ীদের ক্লাব নয়, এটা আদর্শিক প্রতিষ্ঠান, যার মূল লক্ষ্য ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের সেবা করা।

২০১৩ সালে শাহবাগ আন্দোলনের সময় লিখেছিলাম – এখনই মোক্ষম সময় একাত্তরের চেতনাধারী এক বিরোধী শক্তি গড়ে তোলার। কারণ একাত্তর হারিয়ে যায় মানুষ একাত্তর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় বলে নয়, যখন একাত্তরের চেতনা বিক্রিকারী একমাত্র দোকানদার অসুস্থ হয়ে পড়ে বা বিতারিত হয় আর সেই শূন্যস্থান পূরণের জন্য কোন বিকল্প থাকে না তখন একাত্তর হারিয়ে যায়। ক্ষমতা অবলা। দীর্ঘ সময় একা চলতে পারে না। উপযুক্ত পাত্র না পেলে সে অপাত্রের কবলে পড়ে। সময় মত সঠিক পাত্র, সঠিক শাসক গঠন করা রাজনৈতিক দলের কর্তব্য। না করলে ফল ভোগ তাকে করতেই হবে। আর এজন্যেই দরকার গণতন্ত্রের বিকাশ, গণতন্ত্রের চর্চা। বিগত দেড় বছরে বিভিন্ন সময়ে একাত্তরের অনেক স্মৃতি ধ্বংসের পাশাপাশি বিএনপি বার বার একাত্তরের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছে। এখন তার সময় এসেছে অতীতের পাপ স্খলন করে নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের শক্তি হিসেবে প্রমাণ করার। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ঘোষণা এসব যেহেতু বিএনপির অস্তিত্বের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এমতাবস্থায় বিএনপি যদি সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আওয়ামী লীগ সহ স্বাধীনতার পক্ষের সব শক্তির জন্য রাজনীতির মাঠ খুলে দেয় সেটা শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে আর বাংলাদেশ চিরদিনের জন্য একাত্তরের পক্ষ বিপক্ষের ডিলেমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।

ইতিহাস মানুষকে শিক্ষা দেয়, কিন্তু মানুষ তা সাধারনত শেখে না, বিশেষ করে অন্যের ইতিহাস বা অভিজ্ঞতা থেকে। তারপরেও আমরা আশা করব একদিন মানুষ সেটা শিখবে। কারণ এই ভুলের মাশুল দিতে হয় সমাজ, জাতি ও দেশকে। ২০০৮ সালে মানুষ মন থেকে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল। মানুষ চেয়েছিল একাত্তরের ঘাতক দালালরা ন্যায্য শাস্তি পাক। সেখানে অভীষ্ট ফল না আসায় মানুষ পথে নেমে আসে, সরকারকে বাধ্য করে নতুন করে বিচার করতে। উত্তাল হয় শাহবাগ। একাত্তরের ঘাতকরা ফাঁসির রজ্জুতে ঝুলে। সেই সময় ভোটের যোগবিয়োগে আওয়ামী লীগ হেফাজতের সাথে আপোষ করে। মানুষের সমস্ত আশা আকাঙ্ক্ষাকে জলাঞ্জলি দেবার ফল সরকার ধীরে ধীরে গণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আর এক সময় তা পরিণত হয় ঘৃণায়, ক্রোধে। তারেক রহমান বা বিএনপি এ থেকে শিক্ষা নিতে পারে, কেননা আজকে তাদের বিজয়ে সেই মানুষই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে যারা একাত্তরের পক্ষে, জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে। বিগত সরকারের উপদেষ্টাদের ক্ষমতার ভাগী করা এদের ক্ষুব্ধ করবে। কিন্তু একই সাথে এই ঘটনা আরও একটা মেসেজ দেয়। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, অবিশ্বাসী, সংশয়বাদী, বাঙালি, পাহাড়ি সবার অধিকার নিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্য একদিকে যেমন আমাদের মনে আশা জাগায়, মন্ত্রী পরিষদে বিভিন্ন নিয়োগ আমাদের সন্দিহান করে তোলে। এসব নিয়োগ কতটুকু স্বেচ্ছায় আর কতটুকু বাধ্য হয়ে সেটাও আমাদের ভাবায়। তারেক রহমানের অতীত হয়তো বা সুযোগ দেয় তাকে এভাবে ম্যানিপুলেট করার। একই সাথে আগামী দিনের নেতাদের এক মেসেজ দেয় – যদি দেশের জন্য রাজনীতি করতে চান, নিজেকে পরিষ্কার রাখুন। শুধু মাত্র বেআইনি কিছু করলেই কাউকে কম্প্রোমাইজ করা যায়। কম্প্রোমাইজ – মানে একদল লোক আপনাকে দিয়ে আইন বহির্ভূত কাজ করিয়ে নেবে। কিন্তু এটাও ঠিক এমনকি এদের হাতে যদি কিছু থাকেও সেটা দিয়ে একবারই কম্প্রোমাইজ করা যাবে। এই মুহূর্তে তাই দেশের জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করে যদি বিএনপি তথা তারেক রহমান যদি স্বাধীনতা বিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে না করতে পারে তাহলে আখেরে সেটা তার দল ও দেশের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।

ফেসবুকে দেখলাম এবার মাইনরিটি হিন্দু সম্প্রদায় প্রায় এক চেটিয়া বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। কথাটার সত্যতা আছে বলেই মনে হয়। পাকিস্তানের জন্মের পর থেকে সমস্ত প্রতিকুলতা সত্ত্বেও এই সম্প্রদায়রের যারা বাংলাদেশে থেকে গেছে তাদের দেশপ্রেম নিয়ে মনে হয় আর প্রশ্ন করার অবকাশ নেই। সমস্ত আন্দোলনে তারা সেই শক্তিকেই সমর্থন দিয়েছে যারা অন্যদের তুলনায় বেশি বাংলাদেশপন্থী। এমনকি ২০০২ সালের করুণ অভিজ্ঞতার পরেও আজ যখন মৌলবাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার গুরু দায়িত্ব পড়েছে তারা দ্বিধা করেনি বিএনপিকে সমর্থন দিতে। এই সম্প্রদায়কে প্রায়ই ভারতের দালাল ইত্যাদি বলে অভিযুক্ত করা হয়। কিন্তু বাস্তবতাটা হল একটি অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ, স্বাধীন বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি এদেরই দরকার। কারণ এদের অস্তিত্ব নির্ভর করছে দেশের এ ধরণের চরিত্রের উপর। এরা এ দেশের ভূমি সন্তান। তাই সমস্ত বিপদ আপদ, সমস্ত গঞ্জনা বঞ্চনা উপেক্ষা করেও এ দেশের মাটি কামড়ে পড়ে থাকে। নিজেদের জীবন বিপন্ন করে ধরে রাখে এই মাটির হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি। সত্যিকার বাংলাদেশ গড়তে তাই এরাই হতে পারে বিশ্বস্ত বন্ধু, সহযাত্রী। আশা করি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো, যারা সত্যিকার অর্থেই একটি উন্নত, আধুনিক বাংলাদেশ চায়, তারা এই সম্প্রদায়ের মানুষের আত্মত্যাগের কথা মনে রাখবে ও তাদের নাগরিক অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হবে।

বিঃদ্রঃ লেখাটি ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রগতির যাত্রীতে প্রকাশিত হয়েছে

বিজন ভাবনা (৩২): নির্বাচনের হিসাবনিকাশ – বিজন সাহা https://share.google/PlGGs85vXSSfSnYWr  

Comments

Popular posts from this blog

বিজন ভাবনা - (১১) সিপিবির কংগ্রেস ও কিছু কথা

বিজন ভাবনা - (২১) যুদ্ধ আর শান্তির গোল্লাছুট

বিজন ভাবনা - (২৫) জন্মদিন