Posts

বিজন ভাবনা - (৩৬) বঙ্গবন্ধু

Image
গত ১৭ মার্চ ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। ২০২০ সালে তাঁর জন্ম শতবার্ষিকী পালন করা হয় অনেক উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে। আসলে আওয়ামী লীগের শাসনামলে দিনটি সরকারি ভাবে পালন করা হত। এদিন দেশে ও বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ দুতাবাসে শিশু দিবসের আয়োজন করা হত। তবে ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পরে বঙ্গবন্ধু এই বঙ্গভূমিতে আবার ব্রাত্য। তবে এটাও ঠিক যে প্রায় সব সরকারই তাঁকে ব্রাত্য করতে চেয়েছে, কিন্তু তিনি বার বার সমহিমায় ফিরে এসেছেন। বঙ্গবন্ধু বলি বা শেখ হাসিনা বলি বা আওয়ামী লীগ বলি - সবার ভাগ্য অনেকটা সেই সন্তানের মত যার বাবা ইহুদি আর মা অন্য ধর্মের। শুনেছি এক সময় ইহুদিরাও অন্যদের মত পিতার পরিচয়ে সন্তানের ধর্মীয় পরিচয় নির্ধারণ করত। কিন্তু চারিদিক থেকে তাড়া খেয়ে যখন তাদের জাতীয় অস্তিত্ব বিপন্ন হয়, তখন তারা ঠিক করে যে তাদের সন্তানের পরিচয় হবে মায়ের পরিচয়ে – মানে ইহুদি মায়ের সন্তান হবে ইহুদি। পক্ষান্তরে অন্যান্য ধর্মের সন্তানের পরিচয় হয় পিতার পরিচয়ে। ফলে ইহুদি বাবার ছেলে ইহুদি পরিচয় পায় না যেমন মায়ের পরিচয়ে পায় না অন্য ধর্মের পরিচয়। এখন অবশ্য এ নিয়ে কোন সমস্যা নেই, তবে এক সময়, যখন ধর্মীয় পরিচয় সমাজ...

বিজন ভাবনা - (৩৫) অভিমন্যু

Image
মহাভারতে আমার প্রিয় চরিত্রের একটি অভিমন্যু। অর্জুন ও সুভদ্রার ছেলে অভিমন্যু ছোটবেলা থেকেই যুদ্ধ বিদ্যায় পারদর্শী ছিল। কিন্তু আসল পরীক্ষা আসে কুরুক্ষেত্রে যখন অর্জুন নারায়ণী সেনাদের সাথে যুদ্ধে ব্যস্ত ছিলেন। সেই সময় দ্রোণাচার্য চক্রব্যূহ তৈরি করেন যেখানে প্রবেশের পথ একমাত্র অর্জুন ছাড়া কারও জানা ছিল না। যুধিষ্ঠির চিন্তাগ্রস্থ। তখন অভিমন্যু এগিয়ে এসে বলে সে যখন মাতৃগর্ভে ছিল তখন পিতা অর্জুন মাকে এই ব্যুহে প্রবেশের পথ বলেন। কিন্তু এরপর মা ঘুমিয়ে গেলে সে ব্যুহ থেকে নির্গমনের কৌশল শিখতে পারেনি। তাই ব্যুহে ঢুকতে সে পারবে, কিন্তু বেরুতে পারবে কিনা তা জানে না। ভীম সহ সবাই তাকে আশ্বাস দেয়। সেই যুদ্ধে অভিমন্যু ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ, শল্য সহ সাত মহারথীকে পরাজিত করলেও শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে আসতে পারেনি। সাত মহারথীর যৌথ আক্রমণ ঠেকাতে না পেরে মৃত্যুবরণ করে। আমার অনেক সময় মনে হয় আমরা সবাই অভিমন্যু। কারণ জীবনে ছোট বড় শত শত বিজয় লাভের পরেও একসময় মৃত্যুর হাত ধরেই সবাইকে জীবন থেকে অবসর নিতে হয়। অভিমন্যুর কথা মনে পড়ল পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের গতিবিধি দেখে। আর সেই সাথে মনে পড়ল রাশান রুলেটের কথা। রাশান রুলেট এমন ...

বিজন ভাবনা - (৩৪) যুদ্ধের জয়গান

Image
রুশ দেশে একটি কথা আছে – অপ্রত্যাশিত ভাবে শীত চলে এল। হ্যাঁ, সবাই জানে শীত আসবে, এর জন্য প্রস্তুত হয়, হিটিং ব্যবস্থা চালু করে, গাড়ির চাকা বদলায়, শীতের জামা কাপড় বের করে। তারপরেও প্রথম বরফ মনে হয় সবাইকে অবাক করে দেয়। মুমূর্ষু রোগীর ক্ষেত্রেও তাই। এই যায় তো সেই যায়, তবুও শেষ পর্যন্ত যখন নিজের ও সবার কষ্টের অবসান ঘটিয়ে রুগী কাঙ্ক্ষিত স্বর্গের উদ্দেশ্যে উড়াল দেয়, সবাই হাহুতাশ শুরু করে, কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। একই জিনিস দেখব যুদ্ধের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে দীর্ঘ দিন ধরে যখন প্রস্তুতি নেয়া হয় তখন যুদ্ধ শুরু হলেই সবার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। আচ্ছা, ধরুন অনেক অর্থ খরচ করে বিয়ের আয়োজন হল, যদি শেষ মুহূর্তে বিয়ে ভেঙ্গে যায় তখন কি আপনি দুঃখ পাবেন না? এই যে এত ঢাকঢোল পিটিয়ে যুদ্ধের আয়োজন করা হল, বিমানবাহী জাহাজ আনা হল, এল শত শত বিমান, হাজার হাজার সৈন্য – খরচ হল বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার – এমতাবস্থায় যদি যুদ্ধ না হয়, মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের বিমান ও মারণাস্ত্র যদি তাদের কেরদানি দেখাতে না পারে – তাহলে মানসম্মান কোথায় থাকে? যুদ্ধটা শুধু শক্তি দেখান নয়, এখানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের লেনদেন, বলতে পারেন ল্যারেটারিতে যেসব মারণা...

বিজন ভাবনা - (৩৩) নির্বাচন পরবর্তী বাম রাজনীতি

Image
নির্বাচন শেষ, এবার ফসল ঘরে তুলবার পালা। আর যাদের জমিতে ফসল ফলেনি তাদের পর্যালোচনা করার পালা কেন ফসল ফলল না। এর আগে আমরা আওয়ামী লীগকে দোষ দিয়েছি যে তখন তারা স্বাধীন ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা করতে দেয়নি, ভোট হয়েছে আগের রাতে আর ফলে সিপিবি বা বাম জোট ভোটে অংশগ্রহণ করেও ভোট পায়নি। এবার তো প্রচার কার্যে কোন বাধা ছিল না, যতদূর জানি মানুষ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজের ভোট নিজে দিয়েছে – তাই এবার নির্বাচনে গোহারা হারার পক্ষে আগের কোন অজুহাত কাজ করবে না। এ ধরণের হার উল্টো নিজেদের গণ বিচ্ছিন্নতা বলে বিবেচিত হবে। নির্বাচনে সিপিবির ফলাফল দেখে যারপরনাই হতাশ হয়েছি। তারা জিতবে এমনটি আশা করিনি, তবে প্রার্থীরা নিজ নিজ আসনে আরও ভালো করবে সেটা আশা করেছিলাম। কারণ এসব প্রার্থীদের বেশির ভাগ রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ। রাজনৈতিক পরিচিতি, সততা, সুনাম সবই আছে। তাই ভোটের পরিমান যখন গণনার ত্রুটির সমতুল্য হয় তখন ভাবার সময় আসে নিজদের পথ ও মত নিয়ে। বলতে দ্বিধা নেই যে সবচেয়ে হতাশ করেছে সিপিবির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এদের পক্ষে পড়া ভোটের পরিমান হতাশাজনক ভাবে কম। সিপিবি একটি ঐতিহ্যবাহী দল। সাজ্জাদ জহির চন্দন ও আবদুল্লা আল...

বিজন ভাবনা - (৩২) নির্বাচনের হিসাবনিকাশ

Image
সমস্ত জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচন শেষ হল। এর আগে বিভিন্ন খবর দেখে মনে হচ্ছিল যে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন নাও হতে পারে, অন্য ভাবে বানচাল করতে না পারলে জামায়াত ও বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবে – এমন কথাও শোনা যাচ্ছিল আর মনে প্রশ্ন জাগছিল – এই যে অন্যান্য দলগুলো ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা টাকা পয়সা খরচ করে নির্বাচনে নামল তাদের কি হবে? তাদের ক্ষতিপূরণ দেবে কে? তবে ঘটনা সেদিকে মোড় নেয়নি। এবং বলতে দ্বিধা নেই – মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ভাবেই নির্বাচন শেষ হয়েছে। আমাদের দেশে নির্বাচন মানেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, প্রচুর প্রাণের অকালে ঝরে পড়া। এবারের প্রায় রক্ত শূন্য প্রচারণা থেকে আবারও প্রমাণিত হল নির্বাচনে সমস্ত ধরণের অরাজকতার সাথে জড়িত রাজনৈতিক দলগুলো। আমাদের দেশের মানুষ নির্বাচন চায় এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট দিয়ে নিজেদের পছন্দমত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। রাজনৈতিক দলগুলোই বার বার নিজেদের মধ্যে হানাহানি করে জাতির জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে। যদিও কথায় বলে যেমন জনগণ তেমন তার সরকার, কিন্তু সাধারণ মানুষ আবারও প্রমাণ করল তারা দোষী নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর অতিরিক্ত ও অন্যান্য ভাবে ক্ষমতা দখলের লোভই যত নষ্টের মূল। ...

বিজন ভাবনা - (৩১) ডরিয়েন গ্রে

Image
কখনই ভাবিনি যে এপস্টেইনকে নিয়ে লিখব। কেন? কে সে? বড় বিজ্ঞানী? অভিনেতা? লেখক? কবি? সাহিত্যিক? শিল্পী? সাংবাদিক? খেলোয়াড়? না – সে এর কোন কিছুই নয় সে, যদিও এক অর্থে সে অত্যন্ত বড় মাপের খেলোয়াড়। ডঃ ইউনুসের ভাষায় আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়। আর এ কারণেই সারা বিশ্ব আজ তাকে নিয়ে বলছে। একটা সময় নাকি ছিল যখন পশ্চিমা বিশ্বের এলিট মহলের সবাই তার সাহচর্য চাইত। তার সাথে পরিচয় না থাকা নাকি এক ধরণের ব্যর্থতা বলেই মনে করা হত পশ্চিমা এলিট সমাজে। এপস্টেইনের সাথে জড়িত এক নামকরা মহিলার পুরানো ইন্টারভিউ থেকে জানলাম যে এক সময় এপস্টেইনের তালিকাভুক্ত হওয়া মানে ছিল জাতে ওঠা। নিয়তির নির্মম পরিহাসে এই যে এখন তার তালিকায় নাম থাকা অনেকটা অভিশাপের মত। তবে এটা স্বীকার করতেই হবে যে তার পক্ষে সম্ভব হয়েছিল বিশ্বের হর্তাকর্তাদের কোন না কোন ভাবে নিজের চারিদিকে জড়ো করা। সেটাই বা ক’জন পারে। আজ অনেকেই এপস্টেইনকে দায়ী করছে, তবে এটা মানতে হবে যে মার্কেট ইকনমির মূল কথা হচ্ছে ডিম্যান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই। তার সার্ভিসের ডিম্যান্ড ছিল বলেই সে সাপ্লাই চেইন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল আর যেহেতু সেই চেইন শুধু শক্তিশালী নয়, প্রায় সব দেশে আইন বহির্ভূ...

বিজন ভাবনা - (৩০) বর্তমান নির্বাচন ও বাম রাজনীতি

Image
জন্ম মৃত্যু পাশাপাশি চলে, এমনকি সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশেও মানুষ মরে। প্রশ্ন তাই মৃত্যুতে নয়, কীভাবে এই মৃত্যু আসে তাতে। বাংলাদেশে অস্বাভাবিক মৃত্যু কখনোই অভাবনীয় কিছু ছিল না তবে গত দেড় বছরে তার হার অস্বাভাবিক রকম বৃদ্ধি পেয়েছে, অর্থনীতির ভাষায় বললে অস্বাভাবিক মৃত্যুর বাজারে ঘটেছে অস্বাভাবিক মৃত্যস্ফীতি। এই পরিস্থিতিতেও যেটা খুব বেশি করে চোখে পড়ে তা হল সংখ্যালঘুদের অস্বাভাবিক মৃত্যু। বিগত কয়েক মাসে সেটা শুধু পরিমাণে নয়, হিংস্রতায়ও এক ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। পিটিয়ে হত্যা করে গাছে লাশ ঝুলিয়ে পুড়ানোর ঘটনা ঘটেছে আবার অর্ধমৃত অবস্থায় শরীরে আগুন দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী ছাত্রছাত্রী মারা গেছে নিজ নিজ হোস্টেলে। যদিও এই সময় সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের মানুষও মারা গেছে ও যাচ্ছে প্রচুর পরিমানে তারপরেও সংখ্যালঘুদের এসব মৃত্যু দেখে বুঝতে বাকি থাকে না যে অধিকাংশ হত্যা করা হয়েছে পরিকল্পিত ভাবে আর করা হয়েছে যতদূর সম্ভব বিভৎস ভাবে অন্যদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করার জন্য। সংবাদ মাধ্যমে এসব খবর যেভাবে প্রচার করা হয়েছে তাতে বিচারের দাবির চেয়ে ভীতির সঞ্চার বেশি প্রাধান্য ...