Posts

বিজন ভাবনা - (৫৬) তসলিমা নাসরিন

Image
কথায় বলে যে সব ভালো যার শেষ ভালো। হ্যাঁ, দিনের শেষে মানুষ শেষ ফল দেখেই কোন কিছুর ভালো মন্দ বিচার করে। ছাত্রজীবনে লেখাপড়ায় যতই অমনোযোগী হোক না কেন কর্ম জীবনে কেউ সফল হলে মানুষ সেটাই মনে রাখে। এই যে আমরা চব্বিশ পরবর্তী ঘটনার জন্য বামপন্থীদের এত সমালোচনা করি তার মূল কারণ দেশ উল্টো পথে হাঁটছে। কিন্তু যদি চব্বিশের পটপরিবর্তনের ফলে দেশে সত্যি সত্যি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হত, দেশ একাত্তরের প্রতিশ্রুতি পালনের পথে এগিয়ে যেত, তাহলে এই আমরাই এরকম মাস্টার স্ট্রোকের জন্য তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতাম। তাছাড়া আমরা সবাই নিজের নিজের মানসিক, আদর্শিক ও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে কোন ঘটনা বিচার করি। ২০২৪ পরবর্তী দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য নিশ্চয়ই বাম দলগুলো একা দায়ী নয়। এমনকি বলা যায় তাদের শক্তি এতটাই নগণ্য যে একক প্রচেষ্টায় ভালো বা মন্দ করার সামর্থ্য তাদের নেই, ছিল না। তবে অনুঘটক হিসেবে তারা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যেটা তারা রেখেছে। জেনেশুনে বা অজ্ঞাতসারে তারা আন্দোলনকে একটি প্রগতিশীল, দেশপ্রেমিক, ধর্মনিরপেক্ষ রূপ দিয়েছে যার কাঁধে ভর করে জামায়াত শিবির তাদের এজেন্ডা সফল করেছে। দে...

বিজন ভাবনা - (৫৫) চব্বিশের মীরজাফর

Image
যখন লেখাটা বেরুবে তখন ছাব্বিশের জুলাই অস্তমিত হবার পথে। দুই বছর আগেও জুলাই ছিল অতি সাধারণ একটি মাস। তার না ছিল ফেব্রুয়ারি, মার্চ বা ডিসেম্বরের মত গৌরবময় ইতিহাস, না ছিল আগস্টের ভয়াবহ শোক। কিন্তু ২০২৪ সালে সে সবকিছু ছাড়িয়ে যাবে। পরে কেউ একে বলবে “জুলাই বিপ্লব”, কেউ “জুলাইয়ের গণ অভ্যুত্থান”, কেউ বা “দ্বিতীয় স্বাধীনতা”। দেশে একটা কথা আছে - বৃক্ষ তোমার নাম কি? - ফলে পরিচয়। ফলেই যদি পরিচয় হয় তবে এখন একে নিঃসন্দেহে “ভন্ড জুলাই” বলা যায়। কারণ জুলাইয়ের নটনটীরা বাংলাদেশ ও দেশের আপামর জনসাধারণকে যেভাবে ধাপ্পা দিয়েছে, যেভাবে ঠকিয়েছে সেভাবে আর কেউ করেনি। সমস্যা হল যে এই সত্যটি এখনও সবাই উপলব্ধি করতে পারছে না, আবার পারলেও অনেকেই স্বীকার করতে সাহস পাচ্ছে না। উদ্দেশ্য যতই ভালো হোক যদি ফল খারাপ হয় তাহলে সেটার দায় এড়ানো যায় না। তারপরেও অনেকেই এখনও স্বৈরাচার তাড়ানোর আনন্দে মৌলবাদের উত্থান দেখতে পাচ্ছে না। ভুল করা সহজ কিন্তু ভুল স্বীকার করা পৃথিবীর অন্যতম কঠিন কাজ। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সঠিক হলেও তার বাস্তবায়ন অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এর কারণ স্বৈরাচারের পতন চরম লক্ষ্য হতে প...

বিজন ভাবনা - (৫৪) ইউক্রেন যুদ্ধ ও বাংলাদেশ

Image
অনেক আগে, ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর দিকে লিখেছিলাম যে এই যুদ্ধের সাথে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অনেক সামঞ্জস্য আছে। এমনকি আজ বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিদ্যমান তার সাথেও এই মিল চোখে পড়ার মত। জিন্নাহর জীবনী থেকে জানতে পারি যে প্রথম জীবনে তিনি কংগ্রেসের নেতা ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন সেক্যুলার। গান্ধী যখন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফিরে ধীরে ধীরে কংগ্রেসকে এলিটদের ক্লাব থেকে জনতার রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তোলেন এবং দলের অবিসংবাদী নেতা হন তখন জিন্নাহ ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেন। উল্লেখ করা যেতে পারে যে জাতিগত ভাবে তারা দুজনেই ছিলেন গুজরাটি। এরপর জিন্নাহ লন্ডন চলে যান ওকালতি প্রাকটিস করার জন্য। সেখানে ভারতীয় মুসলমানদের অধিকার রক্ষার জন্য যেসব সাম্প্রদায়িক শক্তি কাজ করছিল তারা জিন্নাহকে মুসলিম লীগের কর্ণধার হতে বলেন। বিভিন্ন দ্বিধার পর তিনি এতে সম্মতি দেন। নিজের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করতে নাকি নিজের ব্রাহ্মণ পূর্বসুরীদের অপমানের প্রতিশোধ নিতে জিন্নাহ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন সেটা আমরা জানতে পারব না। যেকোন মূল্যে পাকিস্তান সৃষ্টির জন্য তিনি যে অগ্রসর হয়েছিলেন সেটা পরবর্তী ইতিহ...

বিজন ভাবনা - (৫৩) ইউক্রেন যুদ্ধ ও রাজাকার

Image
অনেকেই হয়তো অবাক হবেন শিরোনাম দেখে। তবে রাজাকার বলতে এখানে আমাদের পরিচিত রাজাকারদের কথা বলছি না, বলছি তাদের কথা যারা রাশিয়ায় বসে রাশিয়ার সাথে বেঈমানি করছে। কয়েক বছর আগে মস্কোর ক্রেমলিনে ইউক্রেন যখন ড্রোন হামলার চেষ্টা করে তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল ছিল যে কেউ মস্কো বা তার পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে এই আক্রমণ চালিয়েছে। তাছাড়া ইউক্রেনীয় ড্রোন যখন কাজান, তিউমেন ও অন্যান্য দূরবর্তী এলাকায় আঘাত হেনেছে তখন এই প্রশ্নটি আবার সামনে চলে এসেছে। এক সময় দুবনা আক্রমণকারী এক ড্রোন কালিয়াজিন থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এমনকি কাজাখস্তান থেকেও রাশিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় এমন হামলার কথা শোনা গেছে। সরকারি ভাবে না বললেও সাধারণ মানুষ এটা বিশ্বাস করত। ইদানিং কালে বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে ও ঘটছে যা নতুন করে প্রমাণ করে যে দেশের ভেতরেও বিদেশী এজেন্ট একেবারে কম নয়। বিগত কয়েকদিন ধরে কয়েকটি খবর এখানে প্রচার করা হয়েছে ভিডিও সহ। এর আগেও টিন এজার আর পেনশন ভুক্ত মানুষদের ইউক্রেন ব্যবহার করেছে নিজেদের কাজে। তবে এসব ক্ষেত্রে সাধারণত ওরা নিজেদের রুশ গোয়েন্দা বাহিনীর অফিসার হিসেবে পরিচয় দিত। এরকম আমার ...

বিজন ভাবনা - (৫২) যুদ্ধ যুদ্ধ এবং যুদ্ধ

Image
বেশ কিছুদিন আগে লিখেছিলাম ইরান ইসরলাইল যুদ্ধ প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিয়েছে যা রাশিয়া সহ অনেক দেশের যুদ্ধে সেই সব অস্ত্র ও কৌশল ব্যবহারের পথ সুগম করে দিয়েছে যারা আগে ন্যায় সঙ্গত কারণেই সমালোচিত হত। কি সেই সুবিধা? বর্তমান যুদ্ধে কোন দেশই শত্রু দেশের নেতাদের উপর সরাসরি আঘাত হানে না। এসব আধুনিক যুদ্ধ নীতির পরিপন্থী বলে মনে করা হয়। আর এ জন্যেই সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রাশিয়া জেলেনস্কির উপর আঘাত হানেনি, যেমন হানেনি জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট সাকাসভিলির উপর। আবার একই ভাবে চেচনিয়ার যুদ্ধে তারা দুদায়েভ, মাসখাদভ, বাসায়েভ সহ অনেক বিদ্রোহী নেতাদের বিনাশ করেছে। তাই জেলেনস্কি বা ইউক্রেনের অন্যান্য নেতাদের ধ্বংস করা টেকনিক্যালি এদের জন্য কোন সমস্যা ছিল না। তবে জেলেনস্কি, সাকাসভিলি এরা নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি, দুদায়েভ ও অন্যরা সন্ত্রাসী। প্রশ্ন আসতে পারে আমেরিকা তো এর আগে সাদ্দাম ও গাদ্দাফিকে হত্যা করেছে, তাহলে নতুন করে জাস্টিফাই করার কি আছে? সাদ্দাম, গাদ্দাফি এরা নিহত হয়েছিলেন স্থানীয় জনতার হাতে, গণ আদালতের রায়ে। অনেকটা সেই পন্টি পিলটের মত। রোমের এই প্রতিনিধি যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করার আদেশ দিলেও সেটা ক...

বিজন ভাবনা - (৫১) যুদ্ধ ও পুতিনের ইন্টার্ভিউ

Image
গত কয়েকদিন যাবত রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হচ্ছে। একদিকে ইউরোপ আদা জল খেয়ে নেমেছে যে করেই হোক যুদ্ধ চালিয়ে যেতে। এমনকি স্টারমার পদত্যাগ করেও সামরিক বাজেট বৃদ্ধি করেছেন সামাজিক খাতের বরাদ্দ কমিয়ে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে শত সহস্র ড্রোন আসছে ইউক্রেনে। এসব ড্রোন দিয়ে ইউক্রেন অনবরত আক্রমণ করে যাচ্ছে রাশিয়ায় সামরিক, বেসামরিক বিভিন্ন স্থাপনা। আক্রমণ করছে তেল শোধনাগার। ফলে তৈরি হয়েছে তেল সংকট। মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে পেট্রল কেনার জন্য। সমাজে কিছুটা হলেও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। এমতাবস্থায় বিভিন্ন উপলক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। সবশেষে তিনি পাভেল জারুবিনকে এক দীর্ঘ ইন্টার্ভিউ দেন। এর আগে দেশের বিভিন্ন বৃহৎ পেট্রল কোম্পানির মালিককদের সাথে তিনি দেখা করেন, দেশে পেট্রল পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। ইন্টার্ভিউতে তিনি স্বীকার করেন যে ক্রিটিক্যাল অবকাঠামোতে, বিশেষ করে এনার্জি সেক্টরের অবকাঠামোতে ড্রোন হামলা বিভিন্ন রকমের সমস্যা তৈরি করেছে, দেশে তেল সংকট তৈরি হয়েছে। এজন্যেই এই সেক্টরের মালিকদের সাথে কথা হচ্ছে। বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হচ্...

বিজন ভাবনা - (৫০) যুদ্ধের রোজনামচা

Image
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইউক্রেন ব্যাপক ভাবে রাশিয়ার উপর ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই মস্কোর আশেপাশে শ’ খানেক ড্রোন ভূপাতিত করা হচ্ছে। কতগুলো ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে সেটা অবশ্য জানা যায় না। তবে রাশিয়া বিশাল দেশ। যেখানে ইসরাইল আয়তনে অনেক ছোট হয়েও ও দীর্ঘ দিন যাবত বিখ্যাত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা “আয়রন ডোম” গড়ে তুলেও ইরানের সব রকেট প্রতিহত করতে পারছে না, সেখানে রাশিয়ায় যে কিছু রকেট লক্ষ্যভেদ করবে, সেটা তো স্বাভাবিক। তবে যেহেতু মাঝে মধ্যেই এখানে সেখানে অগ্নিকান্ডের খবর পাওয়া যায়, তাই সব না হলেও এসবের কিছু অংশ যে ড্রোন আক্রমণে হলেও অবাক হবার কিছুই নেই। তবে যুদ্ধের সময় জনগণকে প্যানিকগ্রস্থ না করা যেকোনো সরকারের দায়িত্ব। সতর্ক থাকতে হবে, কিন্তু ভয় পেলে চলবে না। তাই সরকার যদি এসব খবর নাও দেয়, এতে অন্যায়ের কিছু নেই। যখন ট্রাম্প বলছেন, ইরানের সাথে চুক্তি করে তিনি এখন ইউক্রেনের দিকে মনোযোগ দেবেন, তখন কেন এই আক্রমণ? জি-৭ এর সামিটের আগে বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায়, কলেজের হোস্টেল, বেলারুশের স্কুল ছাত্রদের বহনকারী যাত্রীবাহী বাস শুধু নয়, পিতেরবুরগ ইকোনোমিক্য...

বিজন ভাবনা - (৪৯) যুদ্ধের গতিবিধি

Image
ঘুম ভাঙতেই বন্ধুদের মেসেজ পেলাম – - মস্কো এয়ারপোর্ট বন্ধ কেন? এই এক মজার ব্যাপার। মস্কো এয়ারপোর্ট বন্ধ তার জবাবদিহি করতে হবে আমাকে। রাতের অন্ধকার ভেদ করে এন্টি এয়ার ডিফেন্স কাজ করল, গুলিয়া সাথে সাথে আমার কাছে জবাব চায়। মহা মুস্কিল। যাহোক, এর আগে অবশ্য মস্কো মেয়রের অফিস থেকে মেসেঞ্জারে জানিয়েছে যে আজ (১০ জুন ২০২৬) সকাল থেকে মস্কো ও মস্কো রিজিয়নের ১৯৪ টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। গুলিয়া বলল, সকালের দিকে পর পর ৬টি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছে। ঘুম থেকে উঠে চা খাচ্ছি, বিস্ফোরণের শব্দে ঘর কেঁপে উঠল, বাড়ির সামনে ঘুমিয়ে থাকা গৃহহীন গাড়িগুলো তারস্বরে চিৎকার করতে শুরু করল। বাইরে তাকিয়ে দেখি কালো ধোঁয়ার লাইন চলে গেছে আমাদের বিল্ডিঙের পাশ দিয়ে। বুঝলাম, শহরের উত্তরপূর্ব দিকে অবস্থিত এন্টি এয়ার ডিফেন্সের রকেটগুলো শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত ড্রোন নির্মাণ কেন্দ্র আক্রমণকারী ইউক্রেনিয়ান ড্রোন ধ্বংস করেছে। সাধারণত দুটো শব্দ হয়। প্রথমটা কর্কশ। এটা রকেটের লক্ষ্যভেদের শব্দ। দ্বিতীয় শব্দটা ভোঁতা, ড্রোন পড়ার। যাহোক, বন্ধুদের জানালাম যে এয়ারপোর্ট বন্ধের কারণ হল ইউক্রেনের ড্রোন আক্রমণ। আসলে অনেক দিন ধরেই এয়...

বিজন ভাবনা - (৪৮) শান্তির জন্য যুদ্ধ?

Image
অনেক আগে থেকেই রাশিয়ায় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাত, প্রচণ্ড গরম বা ঠাণ্ডা পড়ার কথা এসএমএস করে জানিয়ে দেয়া হয়। কয়েক দিন আগে হঠাৎ করেই ড্রোন আক্রমণের সম্ভাবনা জানিয়ে সবাইকে সতর্ক করে দিল কর্তৃপক্ষ। এসব সতর্কবার্তা আগে সাধারণত এয়ারপোর্টে জানানো হত। তবে ইদানিং কালে যাত্রীবাহী বাসে, ট্রেনে পরিকল্পিত ভাবে ইউক্রেনের ড্রোনের আঘাতের পরে সরকার সাধারণ মানুষকেও সতর্ক করে দিচ্ছে। গত কয়েক দিন হল অবশ্য নিয়মিত মস্কো ও আশেপাশে ড্রোন ভূপাতিত করার খবর দিচ্ছে। আগে সাধারণত এসব আক্রমণ হত রাতের বেলায়। এখন সারাদিনই প্রায় ৩০ টি করে ড্রোন ভূপাতিত করার খবর দিচ্ছে সরকার। এ থেকে বোঝা যায় পশ্চিমা বিশ্ব এখন ২৪/৭ সুত্রে রাশিয়াকে বিভিন্ন ভাবে আক্রমণ করে ব্যতিব্যস্ত রাখার কৌশল গ্রহণ করেছে। এসব দেখে মনে হয় শান্তি সুদূর পরাহুত। কয়েক দিন আগে পিতেরবুরগ ইকোনোমিক ফোরামে প্রেসিডেন্ট পুতিন বর্তমান কালের কিছু ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন মাত্র কয়েক দিন আগে এক রুশ ব্যবসায়ী তাঁকে জিলেনস্কির আমন্ত্রণে কিয়েভ যাওয়ার কথা জানান। তিনি আপত্তি করেননি। সেখান থেকে ফিরে সেই ব্যবসায়ী জানান জেলেনস্কি পুতিনের সাথে দেখা কর...

বিজন ভাবনা - (৪৭) যাত্রী একই তরণীর

Image
সোভিয়েত আমলে মস্কো ছিল মস্কোপন্থী কমিউনিস্টদের মক্কা। হজ্ব করার মতই বামপন্থীরা এখানে আসতেন লেনিনের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো দেখে ও স্থানীয় পার্টি নেতা ও রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের আলোচনা শুনে বিপ্লবের স্বপ্ন ও আবেগকে আরও ধারালো করতে। সমাজতন্ত্রের পতনের পর মস্কোগামী তীর্থযাত্রীদের স্রোতে ভাটা পড়ে আর একসময় তা শুকিয়ে যায়। তবে ইদানিং কালে মস্কো বিভিন্ন প্রশ্নে নিজেদের চিন্তা ভাবনা, নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি অন্যদের কাছে সরাসরি পৌঁছে দিতে আগ্রহী বিধায় বিভিন্ন ফোরামের আয়োজন করে। যদি আগে এসব ফোরামে সোভিয়েত দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করা হত তবে এখন রাশিয়া মূলত নিজেদের চিন্তা ভাবনা অন্যদের কাছে তুলে ধরে, যা নিয়ে অনেক সময় বাকবিতন্ডা হয়। নিজেদের মত চাপিয়ে দেয়া নয়, অন্যদের এ বিষয়ে অবহিত করাই মূল উদ্দেশ্য। আর এই সূত্র ধরেই দেশের বামপন্থী নেতারা এদেশে আসেন। আমরাও সুযোগ পাই দেশের পরিস্থিতি নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করার। এরকম এক আয়োজনে, সঠিক ভাবে বলতে গেলে রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির আয়োজিত ফ্যাসিবাদ বিরোধী এক ফোরামে যোগ দিতে সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন মস্কো এসেছিলেন। ওর দেখা করেছি, গল্পগুজব করে...

বিজন ভাবনা - (৪৬) যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা

Image
দেশে একটা কথা আছে – আপদ তাড়িয়ে বিপদ ডাকা। অনেকেই আবার বলে ফুটন্ত কড়াই থেকে চুল্লীর আগুনে পড়া। তবে শুধু দেশেই নয়, এ ধরণের ঘটনা আমরা বিশ্ব রাজনীতিতে হরহামেশাই দেখি। ইসরাইল ও আমেরিকা মিলে ইরান আক্রমণ করলে ইউক্রেন যুদ্ধ অনেকটাই পর্দার আড়ালে চলে গেছিল। অনেকে তো ফোন করে জানতেও চাইত – কি ব্যাপার, যুদ্ধ থেমে গেল নাকি। ভাবখানা এই যেন কোন মুভির সবচেয়ে উত্তেজনাকর এপিসোডে কারেন্ট চলে গেছে। যাহোক, আমেরিকা আর ইরান সমঝোতায় পৌঁছানোর খবরে ইউক্রেন আবার সামনে চলে এসেছে। জেলেনস্কি অবশ্য চেষ্টার ত্রুটি করেনি নিজেকে সংবাদ মাধ্যমে ভাসিয়ে রাখতে। কারণ যুদ্ধ মানেই পশ্চিমা ঋণ আর সেই বিশাল ঋণ থেকে কমিশন নেবার সুযোগ। তবে এটা শুধু জেলেনস্কির একার নয়, পশ্চিমা বিশ্বের প্রায় সব নেতাদের পকেটেই বিভিন্ন অনুপাতে এই অর্থ জমা পড়ে বলে বাজারে কথা আছে। আর তাই ইউক্রেন সর্বান্তকরণে চেষ্টা করেছে অনির্বাণ শিখার মত যুদ্ধের আগুন জিইয়ে রাখতে। বিভিন্ন সময়ে রাশিয়ার বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা আক্রমণ করেছে। রাশিয়া উত্তর দিয়েছে। তবে সর্বশেষ যখন ইউক্রেন লুগানস্ক রিপাবলিকের স্তারোবেলস্ক শহরে হোস্টেল আক্রমণ করে তখন থেকে অবস্থার অবনতি ঘটে। উল্...