Posts

বিজন ভাবনা - (৩৩) নির্বাচন পরবর্তী বাম রাজনীতি

Image
নির্বাচন শেষ, এবার ফসল ঘরে তুলবার পালা। আর যাদের জমিতে ফসল ফলেনি তাদের পর্যালোচনা করার পালা কেন ফসল ফলল না। এর আগে আমরা আওয়ামী লীগকে দোষ দিয়েছি যে তখন তারা স্বাধীন ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা করতে দেয়নি, ভোট হয়েছে আগের রাতে আর ফলে সিপিবি বা বাম জোট ভোটে অংশগ্রহণ করেও ভোট পায়নি। এবার তো প্রচার কার্যে কোন বাধা ছিল না, যতদূর জানি মানুষ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজের ভোট নিজে দিয়েছে – তাই এবার নির্বাচনে গোহারা হারার পক্ষে আগের কোন অজুহাত কাজ করবে না। এ ধরণের হার উল্টো নিজেদের গণ বিচ্ছিন্নতা বলে বিবেচিত হবে। নির্বাচনে সিপিবির ফলাফল দেখে যারপরনাই হতাশ হয়েছি। তারা জিতবে এমনটি আশা করিনি, তবে প্রার্থীরা নিজ নিজ আসনে আরও ভালো করবে সেটা আশা করেছিলাম। কারণ এসব প্রার্থীদের বেশির ভাগ রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ। রাজনৈতিক পরিচিতি, সততা, সুনাম সবই আছে। তাই ভোটের পরিমান যখন গণনার ত্রুটির সমতুল্য হয় তখন ভাবার সময় আসে নিজদের পথ ও মত নিয়ে। বলতে দ্বিধা নেই যে সবচেয়ে হতাশ করেছে সিপিবির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এদের পক্ষে পড়া ভোটের পরিমান হতাশাজনক ভাবে কম। সিপিবি একটি ঐতিহ্যবাহী দল। সাজ্জাদ জহির চন্দন ও আবদুল্লা আল...

বিজন ভাবনা - (৩২) নির্বাচনের হিসাবনিকাশ

Image
সমস্ত জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচন শেষ হল। এর আগে বিভিন্ন খবর দেখে মনে হচ্ছিল যে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন নাও হতে পারে, অন্য ভাবে বানচাল করতে না পারলে জামায়াত ও বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবে – এমন কথাও শোনা যাচ্ছিল আর মনে প্রশ্ন জাগছিল – এই যে অন্যান্য দলগুলো ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা টাকা পয়সা খরচ করে নির্বাচনে নামল তাদের কি হবে? তাদের ক্ষতিপূরণ দেবে কে? তবে ঘটনা সেদিকে মোড় নেয়নি। এবং বলতে দ্বিধা নেই – মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ভাবেই নির্বাচন শেষ হয়েছে। আমাদের দেশে নির্বাচন মানেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, প্রচুর প্রাণের অকালে ঝরে পড়া। এবারের প্রায় রক্ত শূন্য প্রচারণা থেকে আবারও প্রমাণিত হল নির্বাচনে সমস্ত ধরণের অরাজকতার সাথে জড়িত রাজনৈতিক দলগুলো। আমাদের দেশের মানুষ নির্বাচন চায় এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট দিয়ে নিজেদের পছন্দমত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। রাজনৈতিক দলগুলোই বার বার নিজেদের মধ্যে হানাহানি করে জাতির জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে। যদিও কথায় বলে যেমন জনগণ তেমন তার সরকার, কিন্তু সাধারণ মানুষ আবারও প্রমাণ করল তারা দোষী নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর অতিরিক্ত ও অন্যান্য ভাবে ক্ষমতা দখলের লোভই যত নষ্টের মূল। ...

বিজন ভাবনা - (৩১) ডরিয়েন গ্রে

Image
কখনই ভাবিনি যে এপস্টেইনকে নিয়ে লিখব। কেন? কে সে? বড় বিজ্ঞানী? অভিনেতা? লেখক? কবি? সাহিত্যিক? শিল্পী? সাংবাদিক? খেলোয়াড়? না – সে এর কোন কিছুই নয় সে, যদিও এক অর্থে সে অত্যন্ত বড় মাপের খেলোয়াড়। ডঃ ইউনুসের ভাষায় আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়। আর এ কারণেই সারা বিশ্ব আজ তাকে নিয়ে বলছে। একটা সময় নাকি ছিল যখন পশ্চিমা বিশ্বের এলিট মহলের সবাই তার সাহচর্য চাইত। তার সাথে পরিচয় না থাকা নাকি এক ধরণের ব্যর্থতা বলেই মনে করা হত পশ্চিমা এলিট সমাজে। এপস্টেইনের সাথে জড়িত এক নামকরা মহিলার পুরানো ইন্টারভিউ থেকে জানলাম যে এক সময় এপস্টেইনের তালিকাভুক্ত হওয়া মানে ছিল জাতে ওঠা। নিয়তির নির্মম পরিহাসে এই যে এখন তার তালিকায় নাম থাকা অনেকটা অভিশাপের মত। তবে এটা স্বীকার করতেই হবে যে তার পক্ষে সম্ভব হয়েছিল বিশ্বের হর্তাকর্তাদের কোন না কোন ভাবে নিজের চারিদিকে জড়ো করা। সেটাই বা ক’জন পারে। আজ অনেকেই এপস্টেইনকে দায়ী করছে, তবে এটা মানতে হবে যে মার্কেট ইকনমির মূল কথা হচ্ছে ডিম্যান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই। তার সার্ভিসের ডিম্যান্ড ছিল বলেই সে সাপ্লাই চেইন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল আর যেহেতু সেই চেইন শুধু শক্তিশালী নয়, প্রায় সব দেশে আইন বহির্ভূ...

বিজন ভাবনা - (৩০) বর্তমান নির্বাচন ও বাম রাজনীতি

Image
জন্ম মৃত্যু পাশাপাশি চলে, এমনকি সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশেও মানুষ মরে। প্রশ্ন তাই মৃত্যুতে নয়, কীভাবে এই মৃত্যু আসে তাতে। বাংলাদেশে অস্বাভাবিক মৃত্যু কখনোই অভাবনীয় কিছু ছিল না তবে গত দেড় বছরে তার হার অস্বাভাবিক রকম বৃদ্ধি পেয়েছে, অর্থনীতির ভাষায় বললে অস্বাভাবিক মৃত্যুর বাজারে ঘটেছে অস্বাভাবিক মৃত্যস্ফীতি। এই পরিস্থিতিতেও যেটা খুব বেশি করে চোখে পড়ে তা হল সংখ্যালঘুদের অস্বাভাবিক মৃত্যু। বিগত কয়েক মাসে সেটা শুধু পরিমাণে নয়, হিংস্রতায়ও এক ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। পিটিয়ে হত্যা করে গাছে লাশ ঝুলিয়ে পুড়ানোর ঘটনা ঘটেছে আবার অর্ধমৃত অবস্থায় শরীরে আগুন দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী ছাত্রছাত্রী মারা গেছে নিজ নিজ হোস্টেলে। যদিও এই সময় সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের মানুষও মারা গেছে ও যাচ্ছে প্রচুর পরিমানে তারপরেও সংখ্যালঘুদের এসব মৃত্যু দেখে বুঝতে বাকি থাকে না যে অধিকাংশ হত্যা করা হয়েছে পরিকল্পিত ভাবে আর করা হয়েছে যতদূর সম্ভব বিভৎস ভাবে অন্যদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করার জন্য। সংবাদ মাধ্যমে এসব খবর যেভাবে প্রচার করা হয়েছে তাতে বিচারের দাবির চেয়ে ভীতির সঞ্চার বেশি প্রাধান্য ...

বিজন ভাবনা - (২৯) গণভোটে – হ্যাঁ না না

Image
গত পর্বে আমরা প্রশ্ন রেখেছিলাম মানুষ কেন রাজনীতিবিদদের বিশ্বাস করবে? আজ সেসব নিয়েই কথা বলব। সামাজিক মাধ্যমে এরকম ক্লিপ দেখা যাচ্ছে যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তো অনেক দেখলেন, এবার জামায়াতকে ভোট দিয়ে দেখেন। এ রকম রিপোর্টও দেখা যাচ্ছে যে জামায়াত শিবির শ্রমজীবী মানুষকে আর্থিক সাহায্য দিচ্ছে তাদের হয়ে প্রচার করার জন্য। এর মানে, তারা নির্বাচনে জেতার জন্য আদা জল খেয়ে মাঠে নেমেছে। এছাড়াও আছে প্রাশাসনিক শক্তি। যদি কেউ ভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের সহজেই টেক্কা দেয়া যাবে সেটা হবে ভুল ধারণা। তাই এই অপশক্তির বিরুদ্ধে খুব সতর্কতার সাথে মাঠে নামতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে যে জামায়াতকে নতুন করে দেখার কিছু নেই। একাত্তরেই তাদের চেহারা আমাদের চেনা হয়ে গেছে। শুধু একাত্তর কেন আশির দশক থেকে রগ কাটার রাজনীতি করে শিবির দেখিয়েছে যে তারা আল বদর, রাজাকারদের দেখানো পথ থেকে এক চুলও সরে আসেনি। তাছাড়া যদি বাংলাদেশের ইতিহাসের দিকে তাকাই এই একই চিত্র আমরা দেখব। নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে বলতে গেলে দেশ চালিয়েছে দুই দল - বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। ১৯৯১ - ১৯৯৬ সালে বিএনপির প্রথম টার্ম আর জামায়াতের সাথে আঁতাত করে ২০০১ – ২০০৬ পর...

বিজন ভাবনা - (২৮) নির্বাচন – “হ্যাঁ” না “না”

Image
সোভিয়েত ইউনিয়নে আর্মেনিয়ান রেডিও বলে এক হিউমারিস্টিক প্রোগ্রাম ছিল। সেখানে শ্রোতারা বিভিন্ন প্রশ্ন করত আর রেডিও থেকে তার উত্তর দেয়া হত। এক শ্রোতার প্রশ্ন ছিল - যদি কেউ ধর্ষণ করতে চায় তাহলে কি করা উচিৎ। উত্তর - যদি এড়ানো সম্ভব না হয় তবে উপভোগ করা। আপাত দৃষ্টিতে এটাকে একটি স্থূল চুটকি মনে হতে পারে। তবে সোভিয়েত ইউনিয়নে বাকস্বাধীনতা ছিল সীমিত তাই এরকম সাংকেতিক ভাষায় মানুষ তাদের মনের ভাব প্রকাশ করত। এই চুটকির একটা অর্থ হল - যদি সরকারি আদেশ অমান্য করা না যায় তবে সেটাকে যতদূর সম্ভব নিজের কাজে লাগানো উচিৎ। কথাটি মনে পড়ল দেশের নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির পর্যালোচনা করতে গিয়ে। কারণ মনে হচ্ছে অনেকেই নিজের সমস্যা সমাধানে বা স্বার্থ রক্ষায় এত ব্যস্ত যে বৃহত্তর ছবিটা দেখতে পাচ্ছে না। এটা ঠিক যে পারফেক্ট বলে কিছু নেই, তবে চেষ্টা করা উচিৎ সেটা অর্জন করার। কিন্তু সবসময় বিজয় দিয়েই সবকিছু বিচার করা ঠিক নয়, পরাজয়ের ক্ষতিটা কতটুকু কমানো গেছে সেটাও হিসেবে নেয়া দরকার। আর এই হিসাব যখন সামনে আসে তখন পরাজয়ের মধ্যেও জয়ের চিহ্ন দেখা চায়, সেটাকে সম্বল করে সামনের দিকে যাওয়া যায়, ভবিষ্যৎ বিজয়ে...

বিজন ভাবনা - (২৭) ইরান

Image
ইরান জ্বলছে - ভেতরে বাইরে সর্বত্র। এই আগুনের কারণ যেমন আভ্যন্তরীণ সমস্যা ঠিক তেমনি এর পেছনে যে বহির্বিশ্বের হাত নেই সেটাও হলফ করে বলা যাবে না। তবে একথা ঠিক যে ইরানের মানুষের জন্য বর্তমান ইসলামী শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন বিকল্প নেই, কিন্তু সেই মুক্তি যে নতুন কোন দুঃশাসন চাপিয়ে দেবে না সেটাই বা কে জানে। কারণ সেদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটা ২০২৪ সালের বাংলাদেশের মত। আওয়ামী শাসনের শেষ দিকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল বলতে কিছু ছিল না কারণ বিরোধী দলকে ধ্বংস করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনীতিকেই ধ্বংস করে ফেলেছিল। ইরানের অবস্থা শুধু তাই নয়, তারচেয়েও শতগুণ খারাপ। সেই ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই সেখানে সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। বাংলাদেশে যেমন রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগে মৌলবাদী শক্তি ক্ষমতা দখল করেছে ইরানেও যে তেমনি এই শূন্য স্থান পূরণে আরও বেশি উগ্রবাদীরা ক্ষমতায় আসবে না সেটা কি হলফ করে বলা যাবে? এটা মনে হচ্ছে এ কারণে যে বিগত প্রায় দুই যুগে যে সব দেশে এরকম বিপ্লব হয়েছে প্রায় সব দেশেই জনগণ ঠকেছে, ক্ষমতা চলে গেছে মৌলবাদী বা ফ্যাসিবাদীদের হাতে। এবং এসব হয়েছে পশ্চি...